নির্মমতার সীমা ছাড়িয়ে: একদিনে ইসরাইলি হামলায় আরও ১১৫ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫
  • ৫০ বার
নির্মমতার সীমা ছাড়িয়ে: একদিনে ইসরাইলি হামলায় আরও ১১৫ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি

প্রকাশ: ২১ জুলাই, ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসন এক ভয়াবহ ও অমানবিক মোড় নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১৫ জন ফিলিস্তিনি। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই সাধারণ নাগরিক—নারী, পুরুষ ও শিশু। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু গুলিতে মারা গেছেন অন্তত ৯২ জন, যাদের অধিকাংশই সহায়তা গ্রহণের জন্য চেকপয়েন্টের কাছে অপেক্ষারত ছিলেন।

উত্তর গাজার জিকিম চেকপয়েন্টে খাদ্য সহায়তা নিতে যাওয়া ৭৯ জন নিরীহ ফিলিস্তিনিকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করে ইসরাইলি বাহিনী। এই ঘটনার নৃশংসতা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে। দক্ষিণ গাজার রাফাহ ও খান ইউনিসে একই ধরনের সহায়তা পয়েন্টে হামলায় প্রাণ গেছে আরও ১৩ জনের। শুধু সামরিক হামলাই নয়, চরম খাদ্য সংকটের কারণেও গত একদিনে অনাহারে মারা গেছেন আরও ১৯ জন ফিলিস্তিনি।

আল জাজিরার রিপোর্ট বলছে, গাজার হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগগুলো এখন রোগী ও অনাহারীর ঢলে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালালেও সীমিত সম্পদে বিপর্যস্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি আগ্রাসনের শুরু হলেও চলতি বছরের শুরুর দিকে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছিল ফিলিস্তিনিদের জীবনে। তবে মার্চের শুরুতে নতুন করে হামলা শুরু করে ইসরাইল এবং পুরো গাজা অঞ্চলকে সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ করে ফেলে। এই অবরোধের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ২ মার্চ থেকে গাজায় কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে পারেনি।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরাইল অবরোধ কিছুটা শিথিল করলেও সহায়তা বিতরণে কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতি আরোপ করে। বর্তমানে ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফান্ড’ বা জিএইচএফ নামের একটি বিতরণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। তবে বিতরণ পদ্ধতির এই কেন্দ্রগুলো বাস্তবে হয়ে উঠেছে প্রাণনাশের ফাঁদ। জাতিসংঘসহ বিশ্বের বহু মানবাধিকার সংগঠন এই পয়েন্টগুলোকে অভিহিত করেছে ‘মানব জবাইখানা’ ও ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জিএইচএফের বিতরণ কার্যক্রম শুরুর পর সহায়তা নেওয়ার চেষ্টাকালে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। প্রতিদিনের এই মৃত্যুমিছিল যেন এখন গাজার বাস্তবতা।

এরই মধ্যে গত ১৮ মে থেকে ইসরাইল গাজার উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এসব অভিযানের ভয়াবহতা দিন দিন বাড়ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৮ হাজার ৮৯৫ জন ফিলিস্তিনি। আহতের সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার ৯৮০।

এই চলমান পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একাংশ ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিলেও এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। ফলে গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। প্রতিদিনই সেখানে যেন মৃত্যু আর অনাহারের এক অন্ধকার অধ্যায় লেখা হচ্ছে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন এই বিভীষিকাময় পরিস্থিতির প্রতি বিশ্ব বিবেকের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করছে এবং ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত