‘জয় বাংলা, জিয়াউর রহমানের জয় হোক’

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৭ বার

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নের কৃষক দলের এক নেতা। গত রোববার (২০ জুলাই) আয়োজিত একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বক্তব্যে তিনি এমন এক রাজনৈতিক মিশ্রণ তৈরি করেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “জয় বাংলা, জিয়াউর রহমানের জয় হোক”—এই বাক্যটি ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক, বিশ্লেষণ ও ব্যঙ্গ।

জয়চণ্ডী ইউনিয়ন কৃষক দলের আয়োজনে হজরত বিবি মাই (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ওই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। এই কর্মসূচি ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ।

ওই কর্মসূচির একটি ১ মিনিট ৭ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইউনিয়ন কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান মালিক নিজের রাজনৈতিক আদর্শ ও আবেগের কথা বলতে গিয়ে বক্তব্য শেষ করেন আলোচিত ও বিতর্কিত বাক্যটি দিয়ে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গঠিত একজন মানুষ… আপনারা দোয়া করবা যাতে আমরা জিয়াউর রহমানের আদর্শে আরও বেশি বেশি গাছ রোপণ করতাম পারি… জয় বাংলা, জিয়াউর রহমানের জয় হউক।”

এই বক্তব্য ঘিরে নেট দুনিয়ায় শুরু হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক সৌজন্যের বহিঃপ্রকাশ বললেও, অনেকেই মনে করছেন—এটি একটি ‘স্লিপ অব টাং’ বা মনের অজান্তে বলা বাক্য হলেও তা রাজনৈতিকভাবে বেদনাদায়ক এবং বিভ্রান্তিকর বার্তা দিতে পারে, বিশেষ করে দুই বিপরীত মেরুর রাজনৈতিক প্রতীক ‘জয় বাংলা’ ও ‘জিয়াউর রহমান’কে এক বাক্যে জুড়ে দেওয়ার কারণে।

এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইমরান মালিক সাংবাদিকদের বলেন, “জয় বাংলা কোনো দলের স্লোগান নয়। এটা বাঙালি জাতির স্লোগান। শুধু জয় বাংলা বলিনি, জিয়াউর রহমানের জয় হোক, এটাও বলেছি।”
অন্যদিকে কুলাউড়া উপজেলা কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম বলেন, “উনি বলতে চেয়েছেন, সবার জয় হোক। বক্তব্যে একটু স্লিপ হয়ে গেছে, আরকি।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুয়েব আহমদ চৌধুরী, উপজেলা কৃষক দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাতির বকস, বিএনপির নেতা ও জয়চণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবদুল খালিক, উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সালামত খান, সহপ্রচার সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান লিটন, ইউনিয়ন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের বক্তব্য অসচেতনভাবে দিলেও তা দলীয় নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠতে পারে। কারণ, ‘জয় বাংলা’ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে, যেখানে বিএনপি ও তাদের অঙ্গ সংগঠনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে বিকল্প রাজনৈতিক ধারা প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। ফলে একই বক্তব্যে দুটি পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক স্লোগানের একত্রে ব্যবহার অনেকের কাছে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি হিসেবেও প্রতিভাত হতে পারে।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে, রাজনৈতিক বক্তব্যে সতর্কতা ও স্পষ্টতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বক্তার অভিপ্রায় সরল হলেও, এর ব্যাখ্যা ও প্রভাব অনেক দূর যেতে পারে—বিশেষ করে যখন তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দুর্বার গতিতে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত