ভাগ্যের অদৃশ্য রেখায় বেঁচে গেল ছোট ভাই, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিভে গেল তানভীরের স্বপ্ন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৮ বার
ভাগ্যের অদৃশ্য রেখায় বেঁচে গেল ছোট ভাই, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিভে গেল তানভীরের স্বপ্ন

প্রকাশ: ২২শে জুলাই’ ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

যে সকালটা ছিল একেবারে সাধারণ, তা রূপ নিল জীবনের সবচেয়ে বড় বেদনার দিনে। একই স্কুলে পড়ত দুই ভাই—তানভীর আহমেদ ও তাশরীফ আহমেদ। দুজনেই টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শি ইউনিয়নের নগরভাতগ্রাম গ্রামের রুবেল মিয়ার ছেলে। পড়াশোনার জন্য পরিবারের সবাই রাজধানীর উত্তরায় বাসা ভাড়া করে থাকতেন। বাবা সেখানেই করতেন ব্যবসা। সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছিল তাদের শহুরে জীবন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন চূর্ণবিচূর্ণ।

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে ঘটে গেল ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা, যা এক মুহূর্তে নিভিয়ে দিল পরিবারের স্বপ্নের প্রদীপ। তানভীরের ছোট ভাই তাশরীফ ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও মেধাবী বড় ভাই তানভীরের জীবন থেমে যায় ভয়াল আগুনের ছোবলে। ঘটনাটির বিবরণ দিতে গিয়ে গলা ধরে আসে স্বজনদের। ছোট ভাই স্কুল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি ফিরে আসে। বড় ভাই তানভীর তখনও ক্লাসে ছিল। আর সেই ক্লাসরুমই মুহূর্তে রূপ নেয় মৃত্যুপুরীতে, যখন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বিধ্বস্ত হয়।

তানভীরের চাচাতো ভাই খাইরুল হাসান জানান, বিমান বিধ্বস্তের খবর শুনে তারা ছুটে যান ঘটনাস্থলে। সেখানে গিয়ে তিনি নিজ চোখে তানভীরকে দেখেন। আগুনে পোড়া সেই চেহারাতেই চিনে ফেলেন ভাইকে। পরে দগ্ধ অবস্থায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বার্ন ইউনিটে, সেখানেই রাতের অন্ধকারে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তানভীর। গভীর রাতে পরিবারের কাছে তার নিথর দেহ হস্তান্তর করা হয়।

ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র তানভীরের ছিল একটাই স্বপ্ন—ডাক্তার হয়ে গরিব-অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াবে। নিজের জীবনকে সে উৎসর্গ করতে চেয়েছিল মানবসেবায়। ক্লাসে সবসময় প্রথম হতো, শিক্ষক-বন্ধুদের প্রিয় ছিল সে। পরিবারের গর্ব হয়ে উঠছিল ধীরে ধীরে। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। আগুনের ভয়াল গ্রাসে নিভে গেল এক সম্ভাবনার আলো।

মির্জাপুরের গ্রামে এখন শুধুই শোক আর কান্নার রোল। আশপাশের শত শত মানুষ ছুটে এসেছেন রুবেল মিয়ার বাড়িতে। সবাই নিথর হয়ে তাকিয়ে আছেন রাস্তার দিকে—কখন আসবে প্রিয় সন্তান, প্রিয় ভাই, প্রিয় ছাত্র তানভীরের নিথর দেহ। সোমবার রাতে ঢাকা থেকে রওনা হয়েছেন তানভীরের মা-বাবা। আজ মঙ্গলবার সকালে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে গ্রামের কবরস্থানে। পরিবার, আত্মীয়, শিক্ষক ও বন্ধুরা তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাবে অশ্রুসিক্ত চোখে।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল ইসলাম এক শোকবার্তায় বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। তানভীরের পরিবারের এই শোক আমরা গভীরভাবে অনুভব করছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।”

তানভীরের মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কখনো কখনো জীবনের সবচেয়ে নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত নেয় সময় নিজেই। একটি অনাগত জীবন, একটি উদীয়মান স্বপ্ন—সবই থেমে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার দহনজ্বালায়। অথচ একই সকালে ছোট ভাই তাশরীফ ছুটি পেয়ে বাড়ি চলে আসায় রক্ষা পেল মৃত্যুর ফাঁদ থেকে।

‘একটি বাংলাদেশ অনলাইন’ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়। তানভীরের মতো প্রতিটি সম্ভাবনাময় প্রাণের মৃত্যু যেন আমাদের শিক্ষা দেয়—নিরাপত্তা ও সতর্কতার জায়গায় আর কোনো অবহেলা যেন না থাকে, যেন এমন নির্মম শোক আর কোনো পরিবারকে না বয়ে বেড়াতে হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত