স্বাধীনতার ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে চায় একটি গোষ্ঠী: রিজভী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৯ বার
রিজভী স্বাধীনতার ইতিহাস

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ইতিহাস কোনো ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচারের মাধ্যমে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যান এলাকায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম দলের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

রিজভী বলেন, দেশের ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই একটি চক্র বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করার যে কোনো প্রচেষ্টা সফল হবে না, কারণ এটি জাতির রক্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি বাস্তব ইতিহাস। তার ভাষায়, “৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা কোনো চক্রান্ত দিয়ে মুছে ফেলা যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা দেশের জন্য কোনোভাবেই শুভ নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে সবাইকে স্বাধীনতার মূল চেতনা ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় সরকারের বিভিন্ন খাতের কার্যক্রম নিয়েও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি মন্ত্রীদের উদ্দেশ করে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, বিভিন্ন সংকট ও ঘটনার ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি থাকলে অনেক সমস্যাই এড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগাম পরিকল্পনা না থাকায় কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো যায়। তার ভাষায়, “প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আগে থেকে নেওয়া হলে অনেক সংকটই সৃষ্টি হতো না।”

জ্বালানি খাত নিয়েও বক্তব্য দেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটকে শুধু অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের অংশ। তবে তিনি দাবি করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও বিকল্প শক্তির ব্যবহার বাড়াতে পারলে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব।

রিজভী নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ভবিষ্যতে সৌরশক্তি ও বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, কিছু দেশ ইতোমধ্যে রুফটপ সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল হয়েছে। তার মতে, বাংলাদেশেও এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে বিদ্যুৎ নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনে কর ও শুল্ক কমিয়ে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা উচিত। এতে করে মানুষ নিজেরাই বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে।

তার বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, শুধু আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবে শক্তি উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। এতে দেশের অর্থনৈতিক চাপও কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিজভীর এই বক্তব্যে একদিকে যেমন ইতিহাস ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে সরকারের বিভিন্ন নীতিগত বিষয় নিয়েও সমালোচনামূলক মন্তব্য এসেছে। ফলে তার বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করেন, রাজনৈতিক নেতাদের উচিত ইতিহাস ও উন্নয়ন নিয়ে দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়া, যাতে বিভ্রান্তি না ছড়ায়। আবার অনেকে মনে করেন, বিভিন্ন ইস্যুতে ভিন্নমত থাকাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রিজভী এবং দলের নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এ সময় জিয়া উদ্যান এলাকায় কিছু সময়ের জন্য রাজনৈতিক কর্মসূচির আবহ তৈরি হয়।

সব মিলিয়ে রুহুল কবীর রিজভীর এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইতিহাস, উন্নয়ন, জ্বালানি এবং স্বাস্থ্য খাত—সব বিষয়েই তার মন্তব্য এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত