মৌসুম শেষে ম্যান সিটি ছাড়ছেন স্টোনস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০ বার
সিটির ইংলিশ ডিফেন্ডার জন স্টোনস

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার জন স্টোনস ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে দীর্ঘ এক দশকের সম্পর্কের ইতি টানতে যাচ্ছেন। চলতি মৌসুম শেষে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে এবং নতুন কোনো চুক্তি না হওয়ায় ক্লাব ছাড়ার বিষয়টি কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেছে। ক্লাব ও খেলোয়াড় দুই পক্ষ থেকেই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত এসেছে, যা ইতিহাদের সমর্থকদের জন্য এক আবেগঘন বিদায়ের বার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৬ সালে এভারটন থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন স্টোনস। তখন তিনি ছিলেন তরুণ ও সম্ভাবনাময় এক ডিফেন্ডার, যার মধ্যে ভবিষ্যতের বড় তারকা হওয়ার সব উপাদানই দেখা গিয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি কেবল একজন সেন্টার-ব্যাকই নন, বরং পেপ গার্দিওলার কৌশলগত ব্যবস্থায় এক বহুমাত্রিক খেলোয়াড়ে পরিণত হন। কখনও ডিফেন্সে, আবার কখনও মিডফিল্ডে বল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিয়ে তিনি সিটির খেলায় নতুন মাত্রা যোগ করেন।

ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে স্টোনস খেলেছেন ২৯০টিরও বেশি ম্যাচ, যেখানে তিনি দলের রক্ষণভাগে স্থিতিশীলতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তার উপস্থিতিতে সিটি একাধিক মৌসুমে ইউরোপ ও ইংল্যান্ডে আধিপত্য বিস্তার করে। বিশেষ করে ২০২২-২৩ মৌসুমে ট্রেবল জয়ের অভিযানে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই দীর্ঘ সময়ে তিনি সিটির হয়ে জিতেছেন মোট ১৬টি শিরোপা। এর মধ্যে রয়েছে একাধিক প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, এফএ কাপ এবং লিগ কাপ। গার্দিওলার অধীনে সিটি যখন ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করে, তখন স্টোনস ছিলেন সেই সাফল্যের অন্যতম স্তম্ভ।

তবে চলতি মৌসুমটি তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ইনজুরির কারণে তিনি নিয়মিত মাঠে নামতে পারেননি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মাত্র ১৬টি ম্যাচ খেলতে সক্ষম হন তিনি। ফিটনেস সমস্যার কারণে দলে তার ভূমিকা কমে যায়, যা শেষ পর্যন্ত তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

বিদায়ী সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন স্টোনস। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, তরুণ বয়সে সিটিতে যোগ দিয়ে তিনি এখন একজন পরিপূর্ণ মানুষ ও ফুটবলার হিসেবে বিদায় নিচ্ছেন। পরিবার, পেশাদার জীবন এবং ফুটবল—সব মিলিয়ে সিটিতে তার যাত্রা ছিল জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলার প্রতি। তার মতে, গার্দিওলার নির্দেশনা ও বিশ্বাস ছাড়া এত বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব হতো না। গার্দিওলার অধীনে তিনি কেবল একজন ডিফেন্ডার হিসেবে নয়, বরং একজন আধুনিক ফুটবলারের মানসিকতা গড়ে তুলতে পেরেছেন।

স্টোনসের বিদায়কে ঘিরে ইতোমধ্যে ফুটবল মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, ইনজুরির কারণে তার ক্যারিয়ার কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও তিনি আধুনিক ফুটবলে ডিফেন্ডারের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছেন। বল নিয়ন্ত্রণ, পজিশনিং এবং গেম রিডিংয়ে তার দক্ষতা তাকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

ম্যানচেস্টার সিটির ভক্তদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি আবেগপূর্ণ মুহূর্ত। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যে খেলোয়াড় ক্লাবের রক্ষণভাগে আস্থার প্রতীক ছিলেন, তার বিদায় সহজভাবে নেওয়া কঠিন। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে তার অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, স্টোনসের বিদায়ের পর সিটির রক্ষণভাগে নতুন পরিকল্পনা শুরু হবে। ক্লাবটি সবসময় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেয় এবং তরুণ প্রতিভা গড়ে তোলার মাধ্যমে দল পুনর্গঠন করে থাকে। ফলে তার শূন্যস্থান পূরণ করাও ক্লাবের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

স্টোনসের ভবিষ্যৎ গন্তব্য নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাব তার প্রতি আগ্রহ দেখাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সফলতা তাকে এখনও আকর্ষণীয় একজন ডিফেন্ডার হিসেবে ধরে রেখেছে।

সব মিলিয়ে জন স্টোনসের ম্যানচেস্টার সিটি অধ্যায় কেবল একটি খেলোয়াড়ের বিদায় নয়, বরং আধুনিক ফুটবলের এক সফল গল্পের সমাপ্তি। এক দশকের এই যাত্রা তাকে যেমন গড়ে তুলেছে একজন শীর্ষ পর্যায়ের ডিফেন্ডার হিসেবে, তেমনি সিটিকেও দিয়েছে অসংখ্য গৌরবময় মুহূর্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত