গাজীপুরে অপহরণ ও অর্থ আদায় কাণ্ডে পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
গাজীপুর পুলিশ টাকা কাণ্ড

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট থানার এক পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ও জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার প্রেস ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন ২৬ এপ্রিল রাতে কোনাবাড়ী এলাকার রুবেল ফিলিং স্টেশনের বিপরীত পাশে সড়ক পার হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি অটোরিকশায় কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে বাইমাইল হরিণচালা এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর দাবি, সেখানে তাকে তল্লাশির আগে মারধর করা হয় এবং একটি পলিথিনে থাকা মাদকদ্রব্য দেখিয়ে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম দফায় তার কাছ থেকে ২৮ হাজার ৪০০ টাকা নেওয়া হয়।

ঘটনার সময় দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে সিফাত নামে আরও এক যুবক ছিলেন বলে জানা যায়। অভিযোগে বলা হয়, সিফাতের মোবাইলে অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত অ্যাপ থাকার অভিযোগ তুলে তাকেও আটক করে টাকা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে তার পরিবারের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

ভুক্তভোগী আরও জানান, পরবর্তী সময়ে তাকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে তার মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব থেকে আরও অর্থ উত্তোলন করা হয়। সব মিলিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার মতো আদায় করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এরপর তাকে হুমকি দিয়ে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য সতর্ক করা হয়।

ঘটনার পর রাতেই তিনি বিভিন্ন পরিচিতজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে ভোররাতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার বাসায় গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন এবং আংশিক অর্থ ফেরত দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে কোনাবাড়ী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক আজিজুল হকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রকাশের পরপরই তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোনাবাড়ী মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন।

তিনি জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অভিযুক্ত এএসআই আজিজুল হক অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা জরুরি।

ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন তার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান বলে জানিয়েছেন।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুরো ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

এই ঘটনার পর গাজীপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

একটি অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং তদন্তের অগ্রগতি এখন সবার নজরে রয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এমন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি রোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে—তার দিকেই এখন তাকিয়ে পুরো এলাকা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত