রোমানিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতার সুযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার
রোমানিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের নতুন সুযোগ

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক সিদ্ধান্ত। পূর্ব ইউরোপের দেশ Romania সরকার অবৈধ অবস্থায় থাকা নন-ইউরোপীয় কর্মীদের জন্য শর্তসাপেক্ষে বৈধ হওয়ার সুযোগ দিয়ে নতুন একটি জরুরি অধ্যাদেশ জারি করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে অবস্থানরত হাজারো বাংলাদেশি কর্মী তাদের আইনি অবস্থান পুনরায় বৈধ করার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বুখারেস্টে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দূতাবাস জানায়, রোমানিয়ার সরকারি জরুরি অধ্যাদেশ নং–৩২ এবং অফিসিয়াল গেজেট নং–৩৩৫ অনুযায়ী রাজক্ষমা কর্মসূচির আওতায় এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নন-ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ থেকে আগত কর্মীরা, যারা বিভিন্ন কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ অবস্থায় চলে গেছেন, তারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশ দূতাবাস ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, রোমানিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা, নিয়োগকর্তার অনিয়ম কিংবা সময়মতো ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন না হওয়ার কারণে অবৈধ অবস্থায় পড়ে যান। নতুন এই নীতিমালা তাদের জন্য একটি বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরি করবে।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, অনেক শ্রমিক বৈধভাবে রোমানিয়ায় প্রবেশ করলেও পরে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অবৈধ হয়ে পড়েন। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কেউ ওয়ার্ক ভিসায় এসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন চাকরি না পেলে অথবা নিয়োগকর্তা চুক্তি রক্ষা না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মী অনিচ্ছাকৃতভাবে আইনি জটিলতায় পড়ে যান।

এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বেতন থেকে ট্যাক্স কেটে নিলেও তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয় না, কিংবা সময়মতো টিআরসি (টেম্পোরারি রেসিডেন্স কার্ড) নবায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে না। এসব অনিয়মের কারণে অনেক বাংলাদেশি কর্মী বৈধতা হারান, যদিও তাদের কোনো ব্যক্তিগত অপরাধ থাকে না।

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ইতোমধ্যে অবৈধ অবস্থায় থাকা কর্মীরা রোমানিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারবেন। তবে এজন্য তাদের নতুন একটি বৈধ নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধীনে ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করতে হবে। এরপর টিআরসি কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকবে।

সরকারি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এই সুযোগ গ্রহণের জন্য নতুন আইনের কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে। প্রক্রিয়াটি শুরু থেকেই জটিল হতে পারে বলে দূতাবাস সতর্ক করেছে এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে এই সুবিধা সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। যেসব ব্যক্তি ইতোমধ্যে ‘রিটার্ন ডিসিশন’ বা দেশত্যাগের নির্দেশ পেয়েছেন, কিংবা যারা অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন, তারা এই রাজক্ষমা কর্মসূচির আওতায় পড়বেন না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকবে রোমানিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এই বিশেষ সুযোগ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে রোমানিয়ায় থাকা বাংলাদেশি কর্মীরা ধাপে ধাপে তাদের আইনি অবস্থান ঠিক করার সুযোগ পাবেন।

শ্রমবাজার বিশ্লেষকদের মতে, রোমানিয়ার এই সিদ্ধান্ত শুধু মানবিক নয়, বরং অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শ্রমঘাটতি পূরণে নন-ইইউ শ্রমিকদের ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে। রোমানিয়া তার শিল্প ও নির্মাণ খাতে বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যার ফলে অভিবাসন নীতিতে কিছুটা নমনীয়তা আনা হয়েছে।

বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকরা এই সিদ্ধান্তকে স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর এই সুযোগ তাদের জীবনে নতুন আশা জাগাবে। বিশেষ করে যারা বৈধতা হারিয়ে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে ছিলেন, তারা এখন নতুন করে স্থিতিশীল জীবন গড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে কর্মীদের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা দালাল চক্রের মাধ্যমে ভুল পথে গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।

সব মিলিয়ে রোমানিয়ার নতুন এই উদ্যোগ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। সঠিকভাবে এটি ব্যবহার করা গেলে হাজারো শ্রমিকের অনিশ্চিত জীবন আবারও স্থিতিশীলতার পথে ফিরতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত