প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশজুড়ে টানা ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোণা জেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে বন্যা শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জসহ মোট পাঁচটি জেলায় বন্যার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি বর্ষণ রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে নিকলীতে সর্বোচ্চ ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া ভোলা, ফেনী, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালীসহ অন্তত ৯টি জেলায় অতিভারি বর্ষণ রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আগামী ১ মে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে করে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে দেশের চারটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর মধ্যে নেত্রকোণার ভুগাই কংশ নদীতে বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার, সোমেশ্বরী নদীতে ৫০ সেন্টিমিটার, মগরা নদীতে ২ সেন্টিমিটার এবং মৌলভীবাজারের মনু নদীতে ৭২ সেন্টিমিটার ওপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে নেত্রকোণা ও মৌলভীবাজারের বেশ কিছু এলাকায় ইতোমধ্যেই বন্যা দেখা দিয়েছে। ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে সরে যাচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলেও দ্রুত বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি লঘুচাপের প্রভাব এবং উত্তর বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসের কারণে দেশের আকাশে গভীর মেঘ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে একটানা ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যা নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি করছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে। ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় ছোট-বড় ভূমিধস ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এতে নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে আসা পানির কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষ করে নিচু এলাকার মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া জরুরি।
স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যেই বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। আশ্রয়কেন্দ্র খোলা এবং ত্রাণ বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, চলমান এই বৃষ্টিপাত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের জন্য বড় ধরনের দুর্ভোগ বয়ে এনেছে। আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া ও পানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।