বজ্রপাতে বাবার মৃত্যু, কোলে থাকা মেয়ে বেঁচে গেল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
নিহত সুমন মন্ডল ও তার মেয়ে সাফিয়া

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজবাড়ীর সদর উপজেলায় বজ্রপাতে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় তার কোলে থাকা ছোট মেয়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত হয়েছে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বুধবার সকালে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মজ্জৎকোল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম সুমন মন্ডল (৩৫)। তিনি ওই এলাকার সিদ্দিক মন্ডলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সকালে প্রতিদিনের মতো সুমন মন্ডল তার সাড়ে তিন বছরের মেয়ে সাফিয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি দোকানের দিকে যাচ্ছিলেন। আকাশে তখন হালকা মেঘ থাকলেও হঠাৎ করেই বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে একটি শক্তিশালী বজ্রপাত ঘটে, যা সরাসরি তাদের আশপাশে আঘাত হানে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বজ্রপাতের তীব্রতায় ছোট্ট সাফিয়া বাবার কোল থেকে ছিটকে পড়ে যায় এবং সুমন মন্ডল সেখানেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের মানুষ দ্রুত ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন এবং রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমন মন্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই দুর্ঘটনায় শিশুকন্যা সাফিয়া কিছুটা আহত হয়। তার নাক ও কান দিয়ে সামান্য রক্তক্ষরণ হলেও বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

নিহতের বন্ধু মফিজুল ইসলাম রুবেল বলেন, প্রতিদিনের মতোই সুমন তার মেয়েকে নিয়ে দোকানের দিকে যাচ্ছিলেন। এমন আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনায় আমরা কেউ কিছু বুঝে উঠতে পারিনি। মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, সুমন মন্ডল ছিলেন শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ। পরিবারের প্রতি তার দায়িত্বশীল আচরণ এবং সবার সঙ্গে সদ্ভাবের কারণে এলাকায় তার একটি ভালো অবস্থান ছিল। তার এমন আকস্মিক মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, বজ্রপাতে সুমন মন্ডলের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার ঘোষ জানান, বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনা বাড়তে শুরু করেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে খোলা মাঠ ও রাস্তায় চলাচলের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

বাবাকে হারিয়ে ছোট্ট সাফিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত পরিবার। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ির পরিবেশ। প্রতিবেশীরা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও শোক কাটিয়ে ওঠা এখনই সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়রা বলছেন, এমন ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল প্রকৃতির ভয়াবহ রূপ কতটা অনাকাঙ্ক্ষিত হতে পারে। এক মুহূর্তের বজ্রপাত বদলে দিতে পারে একটি পরিবারের পুরো জীবন।

প্রশাসন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খোলা জায়গা, গাছের নিচে বা পানির কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

রাজবাড়ীর এই হৃদয়বিদারক ঘটনা আবারও সাধারণ মানুষের মাঝে বজ্রপাতের ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত