বৃষ্টি থামবে কবে জানাল আবহাওয়া অফিস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার
বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত আবহাওয়া পূর্বাভাস

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশজুড়ে চলমান বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৫ মে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে জনজীবনে ভোগান্তি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোরের দিকে রাজধানী ঢাকায় রাতভর আকাশ মেঘে ঢেকে থাকার পর শুরু হয় বৃষ্টি। প্রথমে হালকা বৃষ্টি হলেও কিছু সময়ের মধ্যেই তা মুষলধারে রূপ নেয়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। সড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে যায় এবং অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের প্রায় সব বিভাগেই এই বৃষ্টিপাতের প্রভাব পড়বে। ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। পাশাপাশি রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি হতে পারে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। এর সঙ্গে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের ঝুঁকিও রয়েছে। এতে করে নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলীয় এলাকায় পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়ার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমানে একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণেই দেশে মেঘের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

এই বৃষ্টির কারণে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ফলে গরমের অনুভূতি কিছুটা কমলেও আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তি বজায় থাকবে।

আবহাওয়া অধিদফতর দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, কারণ সেখানে ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির ঝুঁকি বেশি।

ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে বৃষ্টির কারণে সড়কে যানজট, পানি জমে যাওয়া এবং গণপরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় হাঁটু সমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কর্মজীবী মানুষদের সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের টানা বৃষ্টি কৃষির জন্য কিছুটা উপকারী হলেও শহরাঞ্চলে এটি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকায় পানি দ্রুত সরতে পারে না, ফলে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

আবহাওয়া অধিদফতর সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকার এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ৫ মে’র পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে তা আবহাওয়ার পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে।

সব মিলিয়ে, চলমান বৃষ্টিপাত একদিকে যেমন তাপমাত্রা কমিয়ে স্বস্তি দিচ্ছে, অন্যদিকে জনজীবনে বাড়িয়ে দিচ্ছে ভোগান্তি। তাই সতর্কতা মেনে চলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত