নেতার আচরণে আঘাত পেয়েছি: ইসহাক সরকার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার
ইসহাক সরকার

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতি এবং দলীয় রাজনীতির ভেতরের বাস্তবতা নিয়ে হতাশার কথা জানিয়েছেন সদ্য জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া সাবেক বিএনপি নেতা ইসহাক সরকার। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক জীবনে যাকে অনুসরণ করে তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন, পরবর্তীতে সেই নেতার কাছ থেকেই তিনি অবমাননা ও অবিচারের শিকার হয়েছেন।

ইসহাক সরকার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে এক কঠিন সময় শুরু হয়। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময়ের পর দলীয় কিছু অংশ তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে, যা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, দলের ভেতরের কিছু অনুপ্রবেশকারী এবং বিরোধী মনোভাবাপন্ন লোকজন তার এবং তার পরিবারের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে ও তার পরিবারকে নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়। তিনি বলেন, এসব ঘটনার বিরুদ্ধে তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার চেষ্টা করলেও যথাযথ জায়গায় পৌঁছাতে পারেননি। বরং প্রতিবারই বাধার মুখে পড়েছেন।

সাক্ষাৎকারে ইসহাক সরকার আরও অভিযোগ করেন, তিনি একজন বর্তমান মন্ত্রীর কাছে গিয়ে নিজের ওপর হওয়া নির্যাতন এবং মামলার বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তবে তার ভাষায়, সেই সময় ওই নেতা তার সঙ্গে অত্যন্ত অশোভন আচরণ করেন এবং কোনো কথা না শুনেই তাকে ফিরিয়ে দেন। এই ঘটনা তাকে গভীরভাবে মানসিকভাবে আঘাত করেছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, তিনি আশা করেছিলেন একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তার সমস্যার কথা শোনা হবে এবং ন্যায়সঙ্গত সমাধানের পথ খোঁজা হবে। কিন্তু তার অভিযোগ অনুযায়ী, তার কথা না শুনে যেভাবে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কষ্টের অভিজ্ঞতা।

আওয়ামী সরকারের সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ইসহাক সরকার বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন এবং সেই সময় সংশ্লিষ্ট শীর্ষ নেতার অনুপ্রেরণাতেই তিনি আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। তার ভাষায়, যাকে তিনি অনুসরণ করে রাজনীতি শিখেছেন, সেই মানুষটির কাছ থেকেই এমন আচরণ তিনি কল্পনাও করেননি।

তিনি আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর তার ওপর একাধিকবার হামলা হয়েছে এবং তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন। এসব ঘটনার কোনো বিচার বা প্রতিকার তিনি পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইসহাক সরকার বলেন, রাজনীতিতে তিনি সবসময় ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়েছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে অনেকটাই একা ও অসহায় মনে করছেন। তার মতে, দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব অনেক সময় তৃণমূল নেতাকর্মীদের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি তার এখনো বিশ্বাস আছে, তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা তাকে অনেক বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। সেই কারণেই তিনি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দল পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধ নতুন কিছু নয়। অনেক সময়ই তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা নিজেদের অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে সংকটে পড়েন। ইসহাক সরকারের এই বক্তব্য সেই বাস্তবতারই একটি প্রতিফলন বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসব অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সত্যতা নির্ভর করে তদন্ত ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের ওপর। কোনো একটি পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।

ইসহাক সরকারের এই সাক্ষাৎকার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে আন্দোলন-সংগ্রাম, দলীয় আনুগত্য এবং রাজনৈতিক নেতাদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে এগিয়ে নিতে চান বলে জানিয়েছেন। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক যাত্রায় গভীর ছাপ রেখে গেছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

সব মিলিয়ে ইসহাক সরকারের এই বক্তব্য রাজনৈতিক বাস্তবতা, দলীয় সম্পর্ক এবং তৃণমূল নেতাদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও বিতর্ক ও বিশ্লেষণের জন্ম দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত