প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের আইনাঙ্গনে নতুন করে রাজনৈতিক ও পেশাগত উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের এই নির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলগুলো এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে নেমেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য ফোরাম তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল চূড়ান্ত করেছে বলে জানা গেছে।
আইনজীবী মহল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ আলোচনার পর গত সোমবার রাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের মাধ্যমে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। এতে অভিজ্ঞ ও সিনিয়র আইনজীবীদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কিছু মুখও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা ভবিষ্যতে বার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সভাপতি পদে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আলীকে মনোনীত করা হয়েছে। দুইজনই সুপ্রিম কোর্ট আইনাঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এবং পেশাগত দক্ষতার জন্য পরিচিত। তাদের নেতৃত্বে নীল প্যানেল নির্বাচনে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চায় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আইনজীবী মহলে সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন সবসময়ই শুধু পেশাগত সংগঠনের নির্বাচন হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হয়। ফলে প্রতিটি নির্বাচনই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় এবং এর ফলাফলকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়।
বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মতে, এই নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং বিচারাঙ্গনের স্বাধীনতা, পেশাগত অধিকার এবং আইনজীবীদের মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নও এখানে জড়িত। তারা দাবি করছেন, একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায়ভিত্তিক বার গঠন করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষও তাদের অবস্থান শক্ত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। আইনজীবী সমিতির ভেতরে বিভিন্ন মত ও আদর্শের আইনজীবীরা ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছেন। ফলে নির্বাচনকে ঘিরে আইনাঙ্গনে এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিনিয়র আইনজীবীদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদের অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং নেতৃত্বগুণ অনেক ক্ষেত্রেই ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। এই কারণে প্রতিটি প্যানেলই অভিজ্ঞ আইনজীবীদের পাশে রেখে নির্বাচনী কৌশল সাজাচ্ছে।
আইনজীবী সমিতির এই নির্বাচন শুধু ঢাকা বা সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জাতীয় পর্যায়েও এর প্রভাব পড়ে। কারণ দেশের উচ্চ আদালতের আইনজীবীরা বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকায় তাদের নেতৃত্ব ও মতামত বিচারব্যবস্থার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আইনজীবী সমাজের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন আরও বেশি গুরুত্ব বহন করছে। দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনগত সংস্কার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, তারা একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব উপহার দিতে পারবে, যা আইনজীবীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে নির্বাচন ঘিরে আইনজীবীদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা, মতবিনিময় এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশও শুরু হয়েছে। ভোটার আইনজীবীরা প্রার্থীদের অতীত কার্যক্রম, পেশাগত সাফল্য এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইনাঙ্গনের বিশ্লেষকরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন সবসময়ই একটি বার্তা বহন করে, যা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা এবং আইনজীবী সমাজের ঐক্যের প্রতিফলন। তাই এই নির্বাচন শুধু একটি সংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণ নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তাৎপর্যপূর্ণ।
সব মিলিয়ে আসন্ন সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনকে ঘিরে আইনজীবী মহলে যে উত্তেজনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা সময়ের সঙ্গে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কোন প্যানেল আইনজীবীদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়।