প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে সরকার গুরুত্বপূর্ণ চারটি রাষ্ট্রীয় সংস্থায় নতুন শীর্ষ নির্বাহী নিয়োগ প্রদান করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার চারজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে এই নতুন দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। ২৯ এপ্রিল বুধবার জারি করা এই আদেশটি প্রশাসনের উচ্চস্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। বিশেষ করে পরিবহন খাত এবং গৃহায়ণ খাতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন নেতৃত্ব আসার ফলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। বিআরটিএ এবং ডিএমটিসিএলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি জনগণের দৈনন্দিন যাতায়াত ও নাগরিক অধিকারের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় এই নিয়োগগুলোকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনসেবার মানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান। এর আগে তাকে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে বদলির একটি আদেশ দেওয়া হলেও বর্তমান প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা বাতিল করে তাকে বিআরটিএ-এর হাল ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রাহক সেবার ভোগান্তি কমাতে তার অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিআরটিএ এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের জন্য ভিড় করেন। নতুন চেয়ারম্যানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের সুনাম রয়েছে যা এই নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাকে সহায়তা করবে।
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোসা. ফেরদৌসী বেগম। আবাসন সমস্যার সমাধান এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিত করা এই সংস্থার মূল কাজ। একজন অভিজ্ঞ নারী কর্মকর্তার এই শীর্ষ পদে পদায়ন প্রশাসনে নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি মানবিক ও দক্ষ নেতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারি আবাসন প্রকল্পগুলোর দীর্ঘসূত্রতা নিরসন এবং প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দে স্বচ্ছতা বজায় রাখা তার জন্য একটি বড় পরীক্ষা হবে। গৃহায়ণ খাতের উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি এবং সঠিক সময়ে কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তার কঠোর অবস্থান সংস্থার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ঢাকার যানজট নিরসনের স্বপ্নের প্রকল্প মেট্রোরেল এখন আর কেবল কল্পনা নয় বরং বাস্তব। এই মেগা প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঢাকা নভোথিয়েটারের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত মো. শাওগাতুল আলমকে ডিএমটিসিএলের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মেট্রোরেল বর্তমানে রাজধানীর লাইফলাইন হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। তাই এই সংস্থার প্রধান হিসেবে তাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিশেষ করে মেট্রোরেলের নতুন রুটগুলোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং চলমান যাত্রীবাহী ট্রেনের সঠিক সময়ানুবর্তিতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা তার প্রধান কাজ হবে। প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের যে মেলবন্ধন শাওগাতুল আলমের মাঝে রয়েছে তা ডিএমটিসিএলকে আরও আধুনিক ও বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।
একই আদেশের মাধ্যমে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি এবং উদ্ভাবনী চিন্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই জাদুঘরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তার মেধা ও মনন দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটিকে গবেষণাবান্ধব এবং আধুনিক শিক্ষামূলক কেন্দ্রে পরিণত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশাসনের এই রদবদলে দেখা যাচ্ছে যে প্রতিটি ক্ষেত্রেই যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে স্থবির হয়ে পড়া প্রকল্পগুলোতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে জনস্বার্থে এবং প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে এই পরিবর্তনগুলো নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। এই চার কর্মকর্তার হাত ধরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে উঠে জনসেবাকে মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করবে এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের ওপর অর্পিত বিশ্বাস ও আস্থার মর্যাদা দিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সচেষ্ট থাকবেন বলে তারা প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন।