রাজস্থানে স্কুল ভবন ধসে মৃত্যুর মিছিল, হতাহত বহু

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৪১ বার

প্রকাশ: ২৫শে জুলাই, ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের ঝালাওয়া জেলায় একটি সরকারি স্কুল ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। শুক্রবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে জেলার মনোহর থানার অন্তর্গত পিপলোদি এলাকার একতলা বিশিষ্ট ওই সরকারি বিদ্যালয়ে হঠাৎ করে ছাদ ধসে পড়ে। এতে এ পর্যন্ত সাতজন শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, আহত হয়েছে অন্তত ২৯ জন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকে রয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে যখন স্কুলটিতে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ছিল শিক্ষক, কর্মচারী এবং প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী। স্কুলটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং সে সময় সকাল শুরুর প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে ছাদ ভেঙে পড়ায় নির্মমভাবে চাপা পড়ে অসংখ্য শিশু।

জেলার পুলিশ সুপার অমিত কুমার স্থানীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে দ্রুত ঝালাওয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তিন থেকে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনটির দুর্বল গঠনই এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।”

ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরই এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা স্কুল প্রাঙ্গণে এসে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার এর সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলেই আজ এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

উদ্ধার কার্যক্রমে অন্তত চারটি জেসিবি মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজ্যের প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবনের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলওয়ার এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, “আমি জেলা প্রশাসনকে আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং ভবন ধসের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছি। জেলা কালেক্টরের সঙ্গে কথা বলে আমি নিশ্চিত হয়েছি, প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা করছে এবং যেকোনো প্রয়োজনে সহায়তা করা হবে।”

স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়াতে ভবিষ্যতে রাজ্যের সব স্কুল ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা শুরু করা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এই করুণ দুর্ঘটনায় ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই নিহত শিশুদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন নির্মম দুর্ঘটনা যে কোনো দেশের জন্যই গভীর বেদনাদায়ক। এই ঘটনায় শুধু একটি স্কুলেরই নয়, গোটা সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাও নগ্ন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য এখনই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত