হাম আক্রান্তের বেশিরভাগই ঢাকার বাইরের, চিকিৎসা সংকট নিয়ে শঙ্কা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
হাম আক্রান্তের বেশিরভাগই ঢাকার বাইরের, চিকিৎসা সংকট নিয়ে শঙ্কা

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হামের সংক্রমণ দেশের রাজধানী ছাড়িয়ে এখন ঢাকার বাইরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হামের উপসর্গযুক্ত রোগীদের মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি রোগী ঢাকার বাইরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসছেন। এতে করে দেশের সার্বিক জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসক ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং তুলনামূলকভাবে কম সচেতন অঞ্চলে হামের বিস্তার বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে, সেসব জায়গায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে স্থানীয়ভাবে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর অবস্থা জটিল হয়ে পড়ছে। পরে দীর্ঘ ভোগান্তির পর তারা রাজধানী বা বড় শহরের হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও বাড়ছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসার পেছনে অন্যতম কারণ হলো সচেতনতার অভাব এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তে দেরি করা। অনেক অভিভাবক সাধারণ জ্বর বা সর্দি-কাশিকে গুরুত্ব না দিয়ে ফার্মেসি নির্ভর চিকিৎসা গ্রহণ করেন, যা পরবর্তীতে জটিলতা বাড়িয়ে দেয়।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলোতে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর ও গ্রামীণ অঞ্চলের সংযোগ এবং জনঘনত্বের কারণে এসব এলাকায় ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বড় একটি অংশই ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে আসছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, রোগটি শুধু শহরকেন্দ্রিক নয় বরং সারাদেশে বিস্তৃত আকার ধারণ করছে।

চিকিৎসকরা আরও বলছেন, হামের পরবর্তী জটিলতা যেমন নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং অপুষ্টি শিশুদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই শুধু রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নয়, রোগ পরবর্তী যত্নও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শিশুরা যদি হাম থেকে সুস্থ হয়েও যায়, তারপরও তাদের পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট এবং পুষ্টিকর খাবার নিয়মিতভাবে খাওয়ানো জরুরি, যাতে পরবর্তী জটিলতা এড়ানো যায়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। যেসব এলাকায় টিকা গ্রহণের হার কম, সেসব এলাকায় বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তারা আরও বলছেন, শুধু হাসপাতাল নির্ভর চিকিৎসা নয়, বরং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করলে সংক্রমণ কমানো সম্ভব।

অভিভাবকদের উদ্দেশে চিকিৎসকদের পরামর্শ, শিশুদের শরীরে জ্বর, র‍্যাশ বা দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি কোনো ধরনের অবহেলা না করে সময়মতো টিকাদান সম্পন্ন করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সব মিলিয়ে, হামের সংক্রমণ এখন আর শুধু শহরকেন্দ্রিক সমস্যা নয়, বরং সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া একটি জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত