প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশে হালনাগাদ ভোটার তালিকা ২০২৬ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে দেশের মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এই হালনাগাদ তালিকা আসন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এএইচএম আনোয়ার পাশা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে দেশের পুরুষ, নারী এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৪৩ জন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, পূর্ববর্তী তালিকার তুলনায় ভোটার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। সেখান থেকে নতুন তালিকায় ভোটার বেড়ে দাঁড়িয়েছে আরও ৬ লাখ ২৮ হাজার ৩০০ জন। শতকরা হিসেবে এই বৃদ্ধি শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশন জানায়, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। প্রথমে প্রাথমিক খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয় চলতি বছরের ২০ এপ্রিল। এরপর ৩ মে পর্যন্ত ভোটারদের তথ্য সংশোধন, স্থানান্তর ও নতুন অন্তর্ভুক্তির আবেদন গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ৬ মে পর্যন্ত সেই আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করা হয় এবং সর্বশেষ ১৪ মে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলো।
কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন তালিকায় শুধু নতুন ভোটার যুক্ত করা হয়নি, একই সঙ্গে মৃত ভোটারদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে করে ভোটার তালিকা আরও হালনাগাদ ও নির্ভুল হয়েছে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ একটি চলমান প্রক্রিয়া হলেও এটি জাতীয় নির্বাচন প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কারণ সঠিক ও নির্ভুল ভোটার তালিকা ছাড়া কোনো নির্বাচনই স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্যভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যাদের জন্ম ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে এবং যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও হালনাগাদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
কমিশনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদের এই প্রক্রিয়াকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি এবং সঠিক তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে একটি নির্ভুল ভোটার ডাটাবেজ গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।
এদিকে ভোটার তালিকা প্রকাশকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মহল মনে করছে, সঠিক ভোটার তালিকা নিশ্চিত করা গেলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আস্থা আরও বাড়বে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, দেশে তরুণ ভোটারের সংখ্যা বাড়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে একই সঙ্গে ভোটার শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
সব মিলিয়ে ১২ কোটি ৮৩ লাখের বেশি ভোটার নিয়ে দেশ এখন নতুন নির্বাচনী প্রস্তুতির দিকে এগোচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এই হালনাগাদ তালিকা আগামী নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।