প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের টিকরপাড়া এলাকায় সিলেট-জকিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে আবারও ঘটলো একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। দুর্ঘটনাস্থলটি পূর্বেও একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সাক্ষী হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ বা কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে ওই সড়কটিকে যেন ‘মৃত্যুর ফাঁদ’ হিসেবেই চিহ্নিত করা হচ্ছে এখন।
স্থানীয়রা বলছেন, সিলেট-জকিগঞ্জ রুটটি দীর্ঘদিন ধরেই বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল এই রুটে চলাচল করে। অথচ সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ বা যান চলাচলের জন্য নির্ধারিত বিধিবিধান মানা হয় না বললেই চলে। কোথাও কোথাও রাস্তায় বড় গর্ত, অপ্রতুল সড়ক সংকেত, অদক্ষ চালক এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার চরম দুর্বলতা এই রুটে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসড়কে চালকদের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি নেই। নেই কোনো নিয়মিত প্যাট্রোলিং ব্যবস্থা। চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স বৈধ কি না, তারা মাদকাসক্ত কি না—এই বিষয়গুলোতেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা স্পষ্ট। ফলে প্রায়ই দেখা যায় অপ্রশিক্ষিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন চালকের বেপরোয়া চালনার কারণেই ঘটে যাচ্ছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের দাবি, এই রুটে একটি স্থায়ী ট্রাফিক পুলিশ চেকপোস্ট স্থাপন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে স্পিড ব্রেকার বসানো এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হলে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
তবে প্রশ্ন উঠেছে—এই বারবারের প্রাণহানির দায় কে নেবে? যোগাযোগ মন্ত্রণালয় কি এই বিষয়ে কোনো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেবে? নাকি আবারো একদিন পর এই দুর্ঘটনার খবর হারিয়ে যাবে সংবাদপত্রের ভাঁজে?
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো পরিবারগুলোর কান্না থামে না, আর না থামে মানুষের ক্ষোভ। কিন্তু সেই ক্ষোভের মুখেও নীরব সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। সময় এসেছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের ওপর কঠোর জবাবদিহিতার চাপ সৃষ্টি করার। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বারবার এমন বেদনাদায়ক দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির ঘটনার পরেও যদি কর্তৃপক্ষ নির্লিপ্ত থাকে, তবে সেই নীরবতা একদিন রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতার প্রমাণ হিসেবেই ইতিহাসে লেখা থাকবে।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন