প্রকাশ: ২৯শে জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ভারতের প্রভাবশালী শিল্পপতি এবং বলিউড অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের প্রাক্তন স্বামী সঞ্জয় কাপুরের মৃত্যুর পর তাঁর বিপুল সম্পত্তি নিয়ে শুরু হয়েছে জটিলতা, তৈরি হয়েছে পারিবারিক টানাপোড়েন। সঞ্জয়ের আকস্মিক মৃত্যু এবং উত্তরাধিকারের হিসাবকে ঘিরে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন কারিশমা। ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের উত্তরাধিকার প্রশ্নে বলিউডের বাইরেও এখন গুঞ্জনের শীর্ষে রয়েছে কাপুর পরিবার।
মাত্র ৫৩ বছর বয়সে গত ১২ জুন না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সঞ্জয় কাপুর। এই মৃত্যুর পর থেকেই সম্পত্তি নিয়ে শুরু হয় নানা অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের পর্ব। বিশেষ করে সঞ্জয়ের মা রানি কাপুর সম্প্রতি প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকেও অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনায় আসেন কারিশমা কাপুর। যদিও ২০১৬ সালে সঞ্জয়ের সঙ্গে তাঁর বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি ঘটে এবং সেই সময়ই স্পষ্ট হয়ে যায় যে তিনি আর এই পরিবারের কোনো অংশ নন। তবুও বলিপাড়ার একাংশ বলছে, কারিশমা কাপুর নাকি প্রাক্তন স্বামীর বিপুল সম্পত্তির দিকে নজর রেখেছেন, বিশেষ করে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায়। যদিও এ বিষয়ে অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে সঞ্জয়ের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন কারিশমা। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং নির্যাতনের অভিযোগ এনে বিচ্ছেদে রূপ নেয় তাঁদের সম্পর্ক। সে সময়কার বিতর্কিত এক অভিযোগে বলা হয়েছিল, হানিমুনের সময় সঞ্জয় নাকি তাঁর বন্ধুদের কাছে একরাতের জন্য কারিশমাকে ‘নিলামে’ তোলার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ বা আইনি পদক্ষেপের কোনো তথ্য সামনে আসেনি।
বিচ্ছেদের সময় কারিশমা ভরণপোষণ বাবদ পেয়েছিলেন প্রায় ৭০ কোটি টাকা। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তাঁকে দেওয়া হয়েছিল ১৪ কোটি টাকার বন্ড ও মাসিক ১০ লাখ টাকা করে সুদ। তবে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা সঞ্জয়ের উইলে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী কারিশমার নাম নেই বলেই জানা গেছে বিভিন্ন সূত্রে। সে অর্থে, তিনি সম্পত্তির কোনো দাবিদার নন।
সত্যিকার সংঘাত তৈরি হয়েছে সঞ্জয়ের কোম্পানি ‘সোনা কমস্টার’-এর মালিকানা নিয়ে। কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যকে ঘিরেই মূলত তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। কিছু সূত্র বলছে, এই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে সঞ্জয়ের বর্তমান স্ত্রী প্রিয়া সচদেব, আবার কেউ বলছে কারিশমাও আড়াল থেকে সক্রিয় রয়েছেন।
বর্তমানে সঞ্জয়ের অনুপস্থিতিতে তাঁর কোম্পানির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সিইও বিবেক বিক্রম সিংহ। গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত স্মরণসভা শেষে কোম্পানির চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করা হয়েছে জেফরি মার্ক ওভারলিকে। পাশাপাশি, প্রিয়া সচদেব কাপুরকে কোম্পানির নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে, অর্থাৎ নীতিগত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও দৈনন্দিন কাজকর্মে তিনি যুক্ত থাকবেন না।
এই মুহূর্তে কাপুর পরিবারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং সম্পত্তি ভাগাভাগির নাটক ঘিরে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে: সঞ্জয়ের প্রাক্তন স্ত্রী, বর্তমান স্ত্রী ও মা – কে আসলে পাবেন এই বিশাল সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ? আর দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ কি নিরাপদ?
সময়ের অপেক্ষা শুধু নয়, আদালত এবং কোম্পানির নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তই বলে দেবে কে হবেন সঞ্জয়ের ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের প্রকৃত উত্তরাধিকারী। তবে এটুকু নিশ্চিত, বলিউডের চেয়েও বেশি নাটকীয় মোড় নিচ্ছে এই শিল্পপতি পরিবারকে ঘিরে বিতর্কের কাহিনী।