মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও আকাশপথে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রী ও বিমান চলাচলের পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১৯০টি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে কিছু সময়ের জন্য বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সীমিত করা হয়েছিল। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সমন্বয়ের পর ধাপে ধাপে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্র। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন গন্তব্যে সংযোগ স্থাপনে এই বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এর স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার কেবল কুয়েতের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার জন্যও ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে অনেক এয়ারলাইন্স বিকল্প রুট ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছিল। এতে যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যায়। এখন পরিস্থিতি উন্নতির ফলে বিমান সংস্থাগুলো ধীরে ধীরে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচিতে ফিরে আসছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি যাত্রীসেবা উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চেক-ইন, নিরাপত্তা তল্লাশি এবং লাগেজ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে অতিরিক্ত জনবল ও প্রযুক্তিগত সহায়তা যুক্ত করা হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও এ খবর স্বস্তির। কুয়েতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নিয়মিত এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় টিকিট সংকট কিছুটা কমবে এবং যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভ্রমণ খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় ব্যবসায়িক ভ্রমণ, পর্যটন এবং শ্রমবাজার সংশ্লিষ্ট যাতায়াতও গতি পাবে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও কুয়েতগামী ও কুয়েত থেকে পরিচালিত ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারের লক্ষ্যে নতুন সময়সূচি প্রণয়ন করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিমান চলাচল স্বাভাবিক হওয়া একটি দেশের অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক সংকেত। কারণ এর সঙ্গে পর্যটন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়গুলো সরাসরি জড়িত।
কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিমানবন্দর পরিচালনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রতিটি ফ্লাইট পরিচালনা নিশ্চিত করা হচ্ছে যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে আগামী সপ্তাহগুলোতে ফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নতুন কিছু গন্তব্যে বিমান চলাচল পুনরায় চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিমানবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে অপেক্ষার সময় কমেছে এবং সেবার মানও উন্নত হয়েছে। ফলে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সব মিলিয়ে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দৈনিক ফ্লাইট সংখ্যা ১৯০-এ উন্নীত হওয়ায় যাত্রী ও বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে।