নকল শাবনূরের ভিড়ে আসল শাবনূরের পরিচয় প্রতিষ্ঠার লড়াই

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫
  • ৫০ বার

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের একসময়ের জনপ্রিয় ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়িকা শাবনূর নিজের পরিচয় ও সম্মান রক্ষায় বর্তমানে কঠিন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের নামে অসংখ্য নকল প্রোফাইল ও পেজ ঘুরে বেড়ানোয় তিনি পড়েছেন চরম বিড়ম্বনায়। এই নকল অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে একটি পেজ এমনকি ফেসবুকের ভেরিফায়েড ‘ব্লু টিক’ সুবিধাও পেয়ে গেছে, যা আসল শাবনূর ও তার ভক্তদের জন্য বিভ্রান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শাবনূর বহুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি নিজেই ফেসবুকে সক্রিয় হন। এর আগ পর্যন্ত তার নামে চালিত অসংখ্য ভুয়া পেইজ ও আইডি নিয়ে তিনি নিরব ছিলেন। তবে এসব নকল প্রোফাইলের মাধ্যমে চালানো অনৈতিক কার্যক্রম ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা তাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। সম্প্রতি তিনি তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি ভেরিফায়েড করিয়ে এ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ভেরিফায়েড হওয়ার কথা জানিয়ে শাবনূর বলেন, “আমার ফেসবুক আইডি ভেরিফায়েড হয়ে গেছে। সবার অনুরোধে এটা সত্যায়িত করে নিলাম। আশা করি, এখন থেকে আমার অফিসিয়াল আইডি চিনতে কারও অসুবিধা হবে না।”

তবে এখানেই শেষ নয়। নকল শাবনূরের পেজটি যেহেতু ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ব্লু টিক পেয়েছে, তাই এই ঘটনার নেপথ্যে আরও গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন শাবনূর। গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যারা আমার নামে পেজ ভেরিফায়েড করেছে, তাদের উদ্দেশ্য মোটেও সৎ নয়। এই প্রতারক চক্র আমার নাম ব্যবহার করে অপরাধ করতে পারে, এমনকি হয়তো ইতোমধ্যে করে ফেলেছে। আমার পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ছাড়া তো ভেরিফিকেশন সম্ভব না। বিষয়টি জানার পর থেকে আমি খুবই চিন্তিত।”

প্রতারণার আশঙ্কা থেকে শাবনূর এখন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, “আমি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করবো এবং সাইবার নিরাপত্তা বিভাগকে অবহিত করবো। আমার বিশ্বাস, এই পেজ বাংলাদেশ থেকেই পরিচালিত হচ্ছে এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি—এই প্রতারক চক্রের পরিচয় যেন দ্রুত উন্মোচন করা হয়।”

প্রসঙ্গত, যে ভুয়া পেজটি শাবনূর নকল বলে দাবি করছেন, সেটির অনুসারীর সংখ্যা ৬ লাখ ৫৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এই বিপুল ফলোয়ারভিত্তির কারণে পেজটি ফেসবুকে অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করেছে, যা শাবনূরের সত্যিকারের পরিচয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

শুধু শাবনূর নন, এ ধরনের ভুয়া পেজ পরিচালনার শিকার হয়েছেন আরও অনেক তারকা। বাংলাদেশের আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিয়া মাহির ভেরিফায়েড পেজও দীর্ঘদিন ধরে অন্যের দখলে রয়েছে বলে জানা গেছে।

ফেসবুক ভেরিফিকেশন পদ্ধতির ত্রুটি, তথ্য যাচাইয়ের শৈথিল্য এবং পরিচয় চুরির মত স্পর্শকাতর বিষয়ের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে, এ ধরনের ঘটনা একের পর এক বাড়ছে। ভুয়া পরিচয়ে প্রভাবশালী পেজ পরিচালনা করে প্রতারণার পথ তৈরি হচ্ছে, যা শুধু তারকাদের নয়, সাধারণ ভক্তদেরকেও ভুল পথে পরিচালিত করছে।

এ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—প্রযুক্তি যুগে একজন শিল্পী, জনপ্রিয় মানুষ বা গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ঠিক কীভাবে নিজের পরিচয় সুরক্ষিত রাখতে পারে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের দেশের তারকাদের সচেতনতা, নিরাপত্তা কাঠামো এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তাও এখন নতুন করে ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটি বিষয় স্পষ্ট, এই ভুয়া শাবনূর আর আসল শাবনূরের বিভ্রান্তি শুধু সামাজিক মাধ্যমে নয়, বিচার ব্যবস্থার দ্বারেও পৌঁছাতে চলেছে। এবার দেখার বিষয়, কত দ্রুত এবং কীভাবে প্রকৃত সত্য সামনে আসে এবং জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী তার সম্মান পুনরুদ্ধার করতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত