প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া একটি ছোট্ট অথচ প্রভাবশালী সিনেমা ‘মাসান’ আজ এক দশক পূর্ণ করেছে। আর সেই ছবির মাধ্যমেই বলিউডে শক্তিশালী পদার্পণ করেন অভিনেত্রী শ্বেতা ত্রিপাঠি। দশ বছর পর এই ছবির প্রসঙ্গে ফিরে গিয়ে নিজের অভিনয় জীবন ও আত্ম-অনুসন্ধানের কাহিনি শুনিয়েছেন শ্বেতা। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন—”একটি সিদ্ধান্তই আমার জীবনটা বদলে দিয়েছিল। যদি ১০ বছর আগের শ্বেতার সঙ্গে আজকের শ্বেতার দেখা হতো, আমি তাকে জড়িয়ে ধরে বলতাম—ধন্যবাদ, তুমি সাহস দেখিয়েছিলে।”
শুধু অভিনয়েই নয়, এবার প্রযোজনাতেও নিজের অবস্থান গড়ে তুলতে প্রস্তুত শ্বেতা। তার ভাষায়, “এমন গল্প বেছে নিতে চাই, যা শুধু বিনোদন নয়, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো হয়। এমন গল্প, যা শুধু ভারতের দর্শকদের নয়, বিশ্বের নানা সংস্কৃতির মানুষের হৃদয়েও অনুরণন তুলতে পারে।”
‘মাসান’ ছবিতে শ্বেতার অভিনয় সমালোচকদের নজর কেড়েছিল। সেই ছবিতে সহশিল্পী ছিলেন আজকের সুপারস্টার ভিকি কৌশলও। শ্বেতার ভাষায়, “ভিকির সঙ্গে একবার কাজ করলে, কেউ চাইবে দ্বিতীয়বারও কাজ করতে। তিনি শুধু দক্ষ অভিনেতা নন, একজন দুর্দান্ত মানুষও। অভিনয় কেবল নিজের সংলাপ বলার ব্যাপার নয়, বরং অন্যের অনুভব করার বিষয়। আর সেই জায়গায় ভিকি অনন্য।”
শ্বেতা মনে করেন, “সফলতার সংজ্ঞা সবার জন্য এক নয়। ভিকির নিজের পথ আছে, আমারও তাই। কিন্তু যেটা সত্যি, তা হলো—ভিকি সব ধরনের সফলতার যোগ্য দাবিদার।” এই সম্পর্কের ভেতর দিয়ে বোঝা যায়, বলিউডে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সহশিল্পীদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক কতটা গভীর হতে পারে।
শুধু ‘মাসান’ দিয়েই শ্বেতার অভিনয়গুণের প্রমাণ শেষ হয়নি। এর পরের বছরগুলোতে তিনি দর্শকের মনে জায়গা করে নেন ‘মির্জাপুর’, ‘ইয়ে কালি কালি আঁখে’, ‘মেড ইন হেভেন’, ‘কালকূট’ প্রভৃতি সিরিজ ও সিনেমার মাধ্যমে। চরিত্র নির্বাচনে তাঁর সূক্ষ্ম বোধ, দৃঢ়তা ও ভিন্নধর্মী পছন্দ তাঁকে বলিউডের ভিড়ে এক অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি কখনোই চাইনি কেবল জনপ্রিয়তাই হোক আমার লক্ষ্য। আমি এমন গল্পের অংশ হতে চেয়েছি, যেগুলোর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়। অভিনয় আমার কাছে দায়িত্ব, কেবল শিল্প নয়।” এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, অভিনয় শ্বেতার কাছে পেশার চেয়েও বেশি কিছু—এ এক ধ্যান-জ্ঞানের মতো বিষয়।
এক দশকে বদলে যাওয়া সময়ের সাক্ষী হয়ে আজকের শ্বেতা ফিরে তাকান সেই ‘মাসান’ অভিষেকের দিকে। তাঁর চোখে সে সময় ছিল আবেগ, অনিশ্চয়তা, কিন্তু একই সঙ্গে এক অদ্ভুত সাহস—নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে নতুন কিছু করার ইচ্ছা। তিনি বলেন, “যখনই ‘মাসান’-এর কথা ভাবি, এক রকম আবেগ তাড়িত হয়ে পড়ি। এই ছবিই আমাকে প্রথমবার বুঝিয়েছিল—অভিনয় কেবল ক্যারিয়ার নয়, এটা আত্মার প্রকাশ।”
শ্বেতার এই নতুন পথচলা কেবল অভিনয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এবার তিনি নামছেন প্রযোজনার জগতে। তাঁর স্বপ্ন—এমন গল্প প্রযোজনা করা, যা কেবল পর্দায় নয়, দর্শকের মনেও দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। তিনি চান তাঁর কাজ যেন ভাষা ও সংস্কৃতির সীমা ছাড়িয়ে সবার হৃদয়ে পৌঁছায়।
এই অবস্থান থেকে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, শ্বেতা ত্রিপাঠির দশ বছরের পথচলা কেবল অভিনেত্রীর নয়, একজন শিল্পীর পরিণতির গল্প। তাঁর সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং দায়িত্বশীলতা তাঁকে বলিউডে একটি অনন্য স্তরে পৌঁছে দিয়েছে। আর এই পথচলা এখনো শেষ হয়নি—বরং একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন