প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালতে আলোচিত পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্লট বরাদ্দে জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ছয়টি মামলায় এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের অনুপস্থিতিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর দুইটি পৃথক দুর্নীতি দমন ট্রাইব্যুনালে এই আদেশ দেন বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম। আদালত আগামী ১১ ও ১৩ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
আলোচিত এই মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, শেখ রেহানার সন্তান ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং আজমিনা সিদ্দিক। এছাড়াও সরকারের প্রাক্তন সচিব, রাজউকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিবসহ উচ্চপদস্থ বেশ কয়েকজন আমলাও মামলার আসামি।
দুদক জানায়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রোডে ছয়টি প্লট শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়—যার পেছনে ছিল অসৎ উদ্দেশ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। অভিযোগে আরও বলা হয়, বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করে এসব প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়।
মোট ছয়টি মামলায় শেখ হাসিনা সকল মামলারই অভিযুক্ত। একাধিক মামলায় একাধিকবার নাম আসায় সর্বমোট ২৩ জন আসামির বিরুদ্ধে বিচার কাজ চলছে।
বিশেষ জজ আদালত-৫ এ দায়ের করা তিনটি মামলায় শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল পৃথকভাবে অভিযুক্ত। অন্যদিকে, বিশেষ জজ আদালত-৪ এ দায়েরকৃত বাকি তিন মামলায় আসামি করা হয়েছে শেখ রেহানা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাদওয়ান মুজিব ও আজমিনা সিদ্দিককে।
এই মামলার প্রসিকিউশন দল জানায়, মামলাগুলোর প্রাথমিক তদন্ত এবং বিচারিক পর্যায়ে যাবতীয় প্রমাণাদি উপস্থাপন প্রস্তুত রয়েছে। তবে যেহেতু সব আসামিই বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং আদালতে উপস্থিত হননি, তাই আইন অনুযায়ী আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সদস্য খুরশীদ আলম, কবির আল আসাদ, তন্ময় দাস, মো. নুরুল ইসলাম, নাসির উদ্দীন, সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.) এবং রাজউকের একাধিক পরিচালক ও উপপরিচালক।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে শুধু অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দই নয়, বরং সরকারি বিধিমালার মারাত্মক লঙ্ঘনও করা হয়েছে। এই বরাদ্দের পেছনে উচ্চপদস্থ আমলাদের সমন্বিত সহায়তার প্রমাণ মিলেছে, যেটি দুর্নীতির একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।
এ বিষয়ে দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, “এসব মামলার বিচার একটি ঐতিহাসিক নজির হয়ে থাকবে। আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এ ধরনের বিচার অপরিহার্য।”
এদিকে সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই মামলাগুলোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। তবে বিচারিক কার্যক্রমে আদালত এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
আগামী ১১ ও ১৩ আগস্ট শুরু হবে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব। তখনই হয়তো স্পষ্ট হবে, এক যুগেরও বেশি সময় বাংলাদেশের শাসনক্ষমতায় থাকা একটি প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে এই দুর্নীতির অভিযোগ কতটা সত্য, এবং তা কীভাবে বিচার পায়—তা দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
দেশজুড়ে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া, টকশো, রাজনীতিক মহল—সবখানেই এই মামলার ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে ব্যাপক বিশ্লেষণ চলছে।
একটি বাংলাদেশ অনলাইনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত আপডেট পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হবে।