সুনামগঞ্জে শিক্ষার্থী-শ্রমিক দ্বন্দ্বের অবসান, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কর্মবিরতি প্রত্যাহার, স্বাভাবিক যান চলাচল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৯ বার

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সুনামগঞ্জে পরিবহন শ্রমিকদের আকস্মিক ডাকা কর্মবিরতি শেষ পর্যন্ত সমঝোতার মাধ্যমে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রায় ১৮ ঘণ্টাব্যাপী অচলাবস্থার পর সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মালিক-শ্রমিক ও প্রশাসনের মধ্যকার সমঝোতার ভিত্তিতে কর্মবিরতির ইতি ঘটে। এরপর থেকেই সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে বাস ও অন্যান্য যানবাহন চলতে শুরু করে, যা যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।

রোববার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই পরিবহন ধর্মঘটের পেছনে মূল কারণ ছিল সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ও বাস চালক ও হেল্পারের মধ্যে বাস ভাড়াকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া একটি বিরোধ। অভিযোগ রয়েছে, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে এবং বাস ভাঙচুরও হয়। এর প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকরা প্রথমে সুনামগঞ্জ বাসস্টেশনে দুই ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন, পরে তা রূপ নেয় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে। রাত থেকে বন্ধ হয়ে যায় সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে বাস চলাচল। জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন, বন্ধ হয়ে পড়ে সড়কপথে নিত্য চলাচল।

সোমবার সকালে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে, যখন পরিবহন মালিক ও অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনও ধর্মঘটে সমর্থন জানায়। তবে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শুরু হয় সমঝোতার উদ্দেশ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। এতে পরিবহন মালিক, শ্রমিক নেতা ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুনামগঞ্জ বাস মিনিবাস ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মোরশেদ আলম জানান, “আমরা তিনটি দাবি প্রশাসনের কাছে উত্থাপন করেছিলাম। প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে, শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের মধ্যে যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি বাসও সরবরাহ করা হয়েছে।” এ সময় তিনি আশ্বাস দেন, শ্রমিকেরা আগের মতোই দায়িত্ব পালন করবেন এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধে মালিকপক্ষও সচেতন থাকবে।

শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুল হক বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করেছি এবং প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছি। গণপরিবহন জনগণের সেবা দেয়, সেটি যেন ভবিষ্যতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্য আমরা আশাবাদী।”

অপরদিকে, সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল জানান, “দুই পক্ষকে আমরা একই টেবিলে বসাতে পেরেছি এবং সকলে যে ঐকমত্যে পৌঁছেছে, সেটি খুবই ইতিবাচক। প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করবে এবং প্রয়োজনে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের আবারও আলোচনায় বসানো হবে।” তিনি জানান, এখন সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিবহন ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটিকে ঘিরে বেশ আলোড়ন তৈরি হয়। কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের পক্ষ নেন, আবার কেউ শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাপ্য সম্মান না পাওয়ার অভিযোগ সামনে তোলেন। তবে প্রশাসনের সুচিন্তিত হস্তক্ষেপ ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান এক ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।

সুনামগঞ্জের এই অভ্যন্তরীণ সংকটের দ্রুত সমাধান দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে, কারণ এতে একদিকে যেমন গণপরিবহন ব্যবস্থা আবার সচল হয়েছে, অন্যদিকে উভয় পক্ষের মধ্যে ভবিষ্যতের জন্য সহযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলার পথ সুগম হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে এবং শ্রমিক ও শিক্ষার্থী—উভয় গোষ্ঠীর সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত