গণতন্ত্রের মুখোমুখি বলসোনারো: অভ্যুত্থান মামলায় ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্টকে গৃহবন্দী করার নির্দেশ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৩ বার

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট, ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলমান অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের বিচারপ্রক্রিয়া। এবার তাকে গৃহবন্দী করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। স্থানীয় সময় সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রভাবশালী বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দা মোরেস এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এর ফলে বলসোনারো ব্রাসিলিয়ার নিজ বাসভবনে এখন আইনি পরিধির অন্তর্ভুক্ত এক কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছেন। একইসাথে তার মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পুলিশ এবং তাঁর ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এই রায় আসে এমন এক সময়, যখন বলসোনারোর সমর্থনে ব্রাজিলজুড়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ নতুন করে উসকে উঠেছে। গত রোববার রিও ডি জেনিরোসহ বেশ কয়েকটি শহরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তাঁর মিত্ররা সরাসরি আদালতের আদেশ অমান্য করে একটি ফোনালাপ সম্প্রচার করে, যেখানে বলসোনারো নিজ ছেলের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। এই সরাসরি সম্প্রচার আদালতের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনেরই সমান, যা রায় ঘোষণার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

বিচারপতি দা মোরেস বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন এবং রাজনৈতিক বার্তা ছড়ানো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি সরাসরি না হলেও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়েছেন। ব্রাজিলের বিচার বিভাগ মনে করছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড বিচারপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্য হুমকি স্বরূপ।

২০২২ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে বামপন্থী প্রার্থী লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন বলসোনারো। কিন্তু ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি এবং পরোক্ষভাবে তাঁর সমর্থকদের উসকে দেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘিরে সশস্ত্র বিক্ষোভে অংশ নিতে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ব্রাসিলিয়ার জাতীয় কংগ্রেস ও সুপ্রিম কোর্টে হামলার ঘটনায় তার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বিচারকরা মনে করছেন, তিনি সুপরিকল্পিতভাবে ক্ষমতা ধরে রাখার চক্রান্ত করেছিলেন, যার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং সেখানে রাজনৈতিক শরণ নেওয়ার চেষ্টাও করেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিচারক আলেকজান্দ্রে দা মোরেস বলসোনারোর ওপর নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিলেন। গত মাসে তাঁর গতিবিধি নজরদারিতে রাখতে পায়ে ইলেকট্রনিক নজরদারি ডিভাইস পরানোর আদেশ দেওয়া হয়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাও জারি হয়। যদিও তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেছেন, বলসোনারো নিজে কোনো সরাসরি বার্তা প্রকাশ করেননি এবং আদালতের কোনো আদেশ লঙ্ঘনও করেননি।

এদিকে বলসোনারোর আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলছেন, আদালতের আদেশ রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাবেক প্রেসিডেন্টকে ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টা চলছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বলসোনারো নিজে যেমন ব্রাজিলে ‘ট্রাম্পপন্থী রাজনীতি’র প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন, ঠিক তেমনি তার বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া এখন দেশের গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতা এবং আইনের শাসনের পরীক্ষায় রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত বলসোনারোর বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও গভীর নজর রাখছে।

এই অবস্থায় ব্রাজিলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আরও অস্থির হতে পারে, তার ইঙ্গিত মিলছে দেশজুড়ে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ এবং বলসোনারোর সমর্থকদের সোচ্চার অবস্থান থেকে। গণতন্ত্রের এই সংকটময় সময়ে সুপ্রিম কোর্টের কঠোর অবস্থান দেশটির বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের বার্তা দিচ্ছে—যা হয়তো ব্রাজিলের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত