প্রকাশ: ০৮ অগাস্ট ‘২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
নওগাঁর সাপাহার ও ধামইরহাট সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পুশইনে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে চারটায় সাপাহার উপজেলার বামনপাড়া বিওপির মেইন পিলার ২৪৬/২ এস থেকে প্রায় ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও দু’টি শিশু রয়েছে।
বিজিবির সূত্র জানায়, আটককৃতরা মূলত নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার উথলী ও চাঁনপুর এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে আছেন ইমদাদুলের স্ত্রী মোছা হেনা খাতুন (৩৮), বালাম শিকদারের স্ত্রী রূপালী (৩৫), এবং তাদের সন্তান চাঁদনী (৮) ও রমজান, যাদের বয়স যথাক্রমে আট বছর ও দুই বছর ছয় মাস।
আটকদের ব্যাপারে বিজিবি জানায়, প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর আগে তারা অবৈধভাবে ভারতের মুম্বাইয়ে গিয়ে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে কাজ করতেন। সম্প্রতি মুম্বাই পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে ‘চেকব্যাক’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের ছত্রাহাটি বিএসএফ ক্যাম্পে পাঠায়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে বিএসএফ তাদের সীমান্ত গেট দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়।
বর্তমানে আটককৃত ব্যক্তিরা সাপাহার থানার পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আজিজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনা সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবনে বৈরিতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলে ধরেছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইনসহ নানা সমস্যার কারণে মানুষ অনেক সময় অতিরিক্ত ঝুঁকিতে পড়েন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নারীর ও শিশুর উপস্থিতি এই সীমান্ত অঞ্চলের মানবিক সমস্যাকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ওপর নতুন আলোচনার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
সীমান্ত অঞ্চলের এই ধরণের ঘটনা দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা ও সহযোগিতার গুরুত্বকেও আরও প্রতিষ্ঠিত করে, যেখানে বৈধ ও নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিকোণও অপরিহার্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব প্রতিকূলতার মাঝেও সীমান্তের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, তবে মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের তাগিদ ক্রমশ জোরদার হচ্ছে।