প্রকাশ: ০৯ অগাস্ট ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা (এমইভি) চালু করেছে মালয়েশিয়া। দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৫ জুলাই মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত ঘোষণা দিয়েছিল, যা গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এমইভি সুবিধা মূলত বৈধ পাস ল্যানগুং কারজা সেমেন্টারা (পিএলকেএস) ধারকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। আন্তর্জাতিক প্রবেশপথে ইমিগ্রেশন বিভাগ এই প্রক্রিয়া সমন্বয় করবে এবং আগামী বছরের পিএলকেএস নবায়নের অংশ হিসেবেই এই ভিসা প্রদান করা হবে। এর ফলে অভিবাসী কর্মীরা দেশটির ভেতরে ও বাইরে সহজে যাতায়াত করতে পারবেন এবং একইসঙ্গে ইমিগ্রেশন পাসের অপব্যবহারের ঝুঁকিও কমে আসবে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, এমইভি চালুর ফলে শুধু যাতায়াতের সুবিধাই বাড়বে না, বরং বিদেশে অবস্থানরত মালয়েশিয়ার দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোতে নতুন ভিসা আবেদনের চাপও অনেকটাই কমে আসবে। এর ফলে ভিসা প্রক্রিয়ায় সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হবে।
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এই ভিসা সুবিধা চালুর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। গত মে মাসে মালয়েশিয়া সফরে যান বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সফরকালে তারা মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আলোচনার পর ১০ জুলাই মালয়েশিয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে, যা এক মাসের মধ্যেই বাস্তবায়িত হলো।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মালয়েশিয়া বর্তমানে ১৫টি দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করে থাকলেও এতদিন শুধুমাত্র বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মাল্টিপল-এন্ট্রির পরিবর্তে সিঙ্গেল-এন্ট্রি ভিসা চালু ছিল। এর ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে যাওয়া বা জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হতো। অনেক সময় সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা থাকার কারণে তারা দেশের বাইরে আসা-যাওয়ার সুযোগ হারাতেন, যা শুধু ব্যক্তিগত নয়, পেশাগত জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলত।
নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রায় আট লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা এখন থেকে পারিবারিক, সামাজিক বা জরুরি প্রয়োজনে সহজেই দেশে যাতায়াত করতে পারবেন, যা প্রবাসজীবনকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলবে। মালয়েশিয়ায় প্রবাসী কমিউনিটি ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি ইতিবাচক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।