প্রকাশ: ১০ অগাস্ট ‘২০২৫ । বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চট্টগ্রাম — ব্রাজিল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা একটি কনটেইনারে তেজস্ক্রিয় উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে বন্দরের রেডিয়েশন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা। কনটেইনারটিতে স্ক্র্যাপ বা পুরোনো লোহার টুকরা বোঝাই ছিল এবং প্রাথমিক পরীক্ষায় তাতে থোরিয়াম-২৩২, রেডিয়াম-২২৬ ও ইরিডিয়াম-১৯২ সনাক্ত হয়েছে। তেজস্ক্রিয়তার উপস্থিতি ধরা পড়ে বন্দরের ‘মেগাপোর্ট ইনিশিয়েটিভ রেডিয়েশন ডিটেকশন সিস্টেমে’। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কনটেইনারটির খালাস প্রক্রিয়া স্থগিত করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, ঢাকার ডেমরার আল আকসা স্টিল মিলস লিমিটেড ব্রাজিল থেকে মোট পাঁচটি কনটেইনারে ১৩৫ টন স্ক্র্যাপ আমদানি করেছিল। এর মধ্যে একটি কনটেইনার ৩ আগস্ট বন্দরের জিসিবি টার্মিনালের ৯ নম্বর জেটিতে ‘এমভি মাউন্ট ক্যামেরন’ জাহাজ থেকে নামানো হয়। গত বুধবার বন্দরের ৪ নম্বর ফটক দিয়ে কনটেইনারটি খালাসের সময় রেডিয়েশন ডিটেকশন সিস্টেমে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মারুফুর রহমান জানান, কনটেইনারটির দীর্ঘ ভ্রমণপথে একাধিক আন্তর্জাতিক বন্দর অতিক্রম করেছে। ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর মানাউস থেকে এটি ৩০ মার্চ দেশটির স্থানীয় বন্দরে তুলে দেওয়া হয়। এরপর এপ্রিলের মাঝামাঝি পানামার ক্রিস্টোবাল বন্দরে নামানো হয়। সেখান থেকে মে মাসে নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম বন্দরে, পরে জুনে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে পৌঁছায়। ২৮ জুলাই কলম্বো থেকে চট্টগ্রামমুখী যাত্রা শুরু করে এবং ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে কনটেইনারটি।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক পরীক্ষায় শনাক্ত তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা ছিল এক মাইক্রোসিভার্টস, যা উচ্চমাত্রার নয়। তবুও নিরাপত্তাজনিত কারণে কনটেইনারটি আলাদা করে রাখা হয়েছে এবং পরমাণু শক্তি কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। কমিশনের বিজ্ঞানীরা সরেজমিন এসে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা করবেন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, চিকিৎসা, শিল্প, গবেষণা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় উপাদান ব্যবহারের সময় সেগুলো সাধারণত বায়ুরোধী সুরক্ষা পাত্রে রাখা হয় যাতে কোনো বিকিরণ বাইরে ছড়াতে না পারে। ব্যবহারের পর এসব উপাদানকে বিশেষ ব্যবস্থায় তেজস্ক্রিয় বর্জ্য হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু অব্যবস্থাপনা বা অসতর্কতার কারণে এই উপাদান মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দরে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবং আমদানিকৃত পণ্যে তেজস্ক্রিয় উপাদানের উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে সনাক্তের জন্য বন্দরের নিরাপত্তা ও স্ক্যানিং ব্যবস্থার ওপর আরও জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।