গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলায় এক আসামির দোষ স্বীকার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৯৫ বার

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গাজীপুরে আলোচিত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলায় এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত–৩-এর বিচারক ওমর হায়দারের আদালতে এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এর আগে দুই দিনের পুলিশি রিমান্ড শেষে মোট সাত আসামিকে আদালতে তোলা হয়। গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতের ইন্সপেক্টর আহসান উল্লাহ চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তারকৃত সাত আসামির মধ্যে শাহাজালাল নামের একজন হত্যাকাণ্ডে নিজের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে আদালতে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। আদালত জবানবন্দি গ্রহণের পর তাঁকে এবং বাকি ছয় আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ভয়ংকর ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের ফাঁদে পড়ে খুন হন স্থানীয়ভাবে পরিচিত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হত্যার পেছনে ছিল একটি পরিকল্পিত প্রতারণা ও ছিনতাইচক্র, যারা প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে অর্থ, মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয় কিংবা প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। তুহিন এই চক্রের টার্গেটে পড়ে প্রাণ হারান বলে ধারণা করছে পুলিশ।

এ ঘটনায় বাসন থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের মধ্যে সাতজনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ জানায়, রিমান্ডে থাকা অবস্থায় শাহাজালাল হত্যার নেপথ্যের ঘটনা ও নিজের ভূমিকা স্বীকার করে নেয়। তাঁর দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার দিন কীভাবে তুহিনকে টার্গেট করা হয়, কোথায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়—সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।

সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ড গাজীপুরে সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন। পাশাপাশি ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আশা, আসামিদের জবানবন্দি ও প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত চার্জশিট আদালতে দাখিল করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, স্থানীয়রা মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী ও চক্রের সব সদস্যকে আইনের আওতায় আনতে না পারলে বিচারপ্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

এই ঘটনার পর গাজীপুরে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে, যা দমন করতে হলে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও বাড়াতে হবে। তুহিন হত্যাকাণ্ড কেবল একটি ব্যক্তিগত শোকের ঘটনা নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর অপরাধচক্র উন্মোচনেরও সুযোগ এনে দিয়েছে, যা ভেঙে দিতে পারলে সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com