প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
শান্তিনগরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় চাঁদা দাবির অভিযোগ সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী চিকিৎসকের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করে ১৫ আগস্টের মধ্যে টাকা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সময়সীমা পার হওয়ার দুই দিন পর তার ওপর হামলা হয়।
চিকিৎসকের অভিযোগ, চাঁদা দাবির বার্তায় কথিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে হামলা ও চাঁদা দাবির ঘটনায় ডেভিড ইমন বা তার সহযোগীদের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
ডা. আসাদুর রহমান জানান, গত ৬ আগস্ট তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠিয়ে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করা হয়। বার্তায় একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে অর্থ পরিশোধের জন্য আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। প্রথমে তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। তার ধারণা ছিল, এটি কোনো ভুয়া গ্রুপের কর্মকাণ্ড হতে পারে।
কিন্তু ১৭ আগস্ট রাতে ঘটে হামলার ঘটনা।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা শেষে বাসায় ফিরছিলেন ডা. আসাদুর রহমান। শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি তার গাড়ির গতিরোধ করে। তারা প্রথমে গাড়ির দরজা খুলতে চাপ দেয়।
চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, দরজা না খোলায় হামলাকারীরা তাকে একজন রোগীর স্বজনকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করে। তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলেও হামলাকারীরা কোনো স্পষ্ট উত্তর দেয়নি এবং দরজা খোলার জন্য চাপ দিতে থাকে।
একপর্যায়ে দরজা খুলে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তার চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, তার চোখে রক্ত জমাট বেঁধেছে এবং কর্নিয়ায় ক্ষত হয়েছে।
হামলার পরও হুমকি অব্যাহত থাকার অভিযোগ করেছেন ডা. আসাদুর রহমান। তার দাবি, হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পরই একই ধরনের যোগাযোগ থেকে তার হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা আসে—‘Now how do you feel?’ অর্থাৎ, ‘এখন কেমন অনুভব করছেন?’
পরদিন সকালেও একই নম্বর থেকে তাকে আর কোনো ঝামেলায় না জড়ানোর জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর পল্টন থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জীবন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।
মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির চাঁদা দাবির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল কি না এবং এই ঘটনার পেছনে আরও কারা রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানিয়েছেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। চাঁদা দাবির অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় এরই মধ্যে চিকিৎসক সমাজে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ঘটনার নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
ডা. আসাদুর রহমানের অভিযোগ, শুধু হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করলেই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হবে না। হামলার নির্দেশদাতা কারা, চাঁদা দাবির সঙ্গে কারা জড়িত এবং হামলার পরও তাকে কেন হুমকি দেওয়া হচ্ছে—এসব প্রশ্নের উত্তর বের করা জরুরি।
কথিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে এর আগেও চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে চট্টগ্রামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তবে বর্তমান ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।
ঘটনাটি রাজধানীতে চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে চাঁদা দাবির পর নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর হামলা এবং হামলার পরও হুমকি অব্যাহত থাকার অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।
পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে হামলার প্রকৃত কারণ, চাঁদা দাবির উৎস এবং এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কথিত ডেভিড ইমন গ্রুপের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।