আমার টাকা ফেরত চাই’, চট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ বার

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রামে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা নিজেদের আমানতের সুরক্ষা, ব্যাংকিং লেনদেন স্বাভাবিক করা এবং আমানতের ওপর প্রস্তাবিত ‘হেয়ার কাট’ বা অর্থ কর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা। ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক—ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় আমানতকারীরা ‘আমার টাকা ফেরত চাই’, ‘হেয়ার কাট মানি না’, ‘আমানত নিয়ে টালবাহানা চলবে না’ এবং ‘ন্যায্য দাবি আদায় না হলে ঘরে ফিরব না’—এ ধরনের বিভিন্ন স্লোগান দেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের আমানত নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন তারা। দ্রুত আমানত ফেরত দেওয়া, ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করা এবং আমানতের ওপর কোনো ধরনের কর্তন না করার দাবি জানান তারা। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

কর্মসূচি শেষে সংগঠনের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দেয়। এ সময় কর্মকর্তারা আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, তাদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই এবং তারা তাদের টাকা ফেরত পাবেন।

আমানতকারীদের দেওয়া স্মারকলিপিটি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর আশ্বাসও দেওয়া হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আমানতকারী শারমিন আক্তার বলেন, অর্থমন্ত্রী সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এখন সেই আশ্বাস বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমানত নিয়ে তৈরি অনিশ্চয়তার অবসান চান তারা।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক আলাউদ্দীন আজাদ বলেন, অনেক আমানতকারী তাদের সঞ্চয়ের মুনাফার ওপর নির্ভর করে সংসার পরিচালনা করেন। মুনাফার হার কমে যাওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তারা এরই মধ্যে চতুর্থবারের মতো গেছেন। প্রতিবারই সময় দেওয়া ও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস মিলেছে। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার বিষয়টি উত্থাপন করার পর অর্থমন্ত্রী সংসদে ‘হেয়ার কাট’ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি বলে জানান তিনি।

আলাউদ্দীন আজাদ বলেন, একসময় তাদের আমানতের বিপরীতে মুনাফা ১২ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে তা ৮ থেকে ৯ শতাংশে নেমে এসেছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে আমানতের মুনাফার ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো চাপে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকে রাখা সঞ্চয়ের মুনাফা দিয়ে তারা নিয়মিত সংসারের ব্যয় ও চিকিৎসা খরচ চালাতেন। এখন সেই অর্থ কমে যাওয়ায় বয়স্ক পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আমানতকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ সীমিত থাকায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আর্থিক পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে আমানত ফেরত ও ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের বিষয়ে আশ্বস্ত করলেও ‘হেয়ার কাট’ প্রত্যাহারসহ তাদের সব দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত