ইউনিটপ্রতি ২৩.৯৩ ডলারে এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬ বার

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৩ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলার দরে এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও ১৪ কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরভিত্তিক আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড আগামী ১ থেকে ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই এলএনজি সরবরাহ করবে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলার। এটি চলতি বছরের ৪৪তম এলএনজি কার্গো।

এদিকে দেশের গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে আরও এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ১৪ কার্গো এলএনজি কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে দুটি করে কার্গো কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৈঠকে সংশ্লিষ্টরা জানান, জনস্বার্থে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এসব এলএনজি আমদানির মূল উদ্দেশ্য। সাম্প্রতিক সময়ে এলএনজি সরবরাহে ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জরুরি ক্রয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে সরকার।

এলএনজির পাশাপাশি কৃষি খাতের প্রয়োজন মেটাতে বিপুল পরিমাণ সার আমদানির অনুমোদনও দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভা কমিটি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টন মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানি করা হবে।

এর মধ্যে কানাডার কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন (সিসিসি) থেকে ৮০ হাজার টন এবং রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার কেনা হবে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭৭ দশমিক ৬৩ মার্কিন ডলার।

এ ছাড়া সৌদি আরবের এসএবিআইসি অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে প্রতি টন ৪৩০ মার্কিন ডলার দরে ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ২১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার বেশি।

বাণিজ্যিক প্রয়োজনে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ২ কোটি লিটার বা ২০ হাজার টন পরিশোধিত পাম অলিন কেনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। শবনাম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ এই পাম অলিন সরবরাহ করবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৩৬৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৮৪ টাকা ১০ পয়সা।

বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন ও রেল যোগাযোগ খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘গ্রিন রেলওয়ে পরিবহন প্রস্তুতিমূলক কারিগরি সহায়তা’ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা বিমানবন্দর ও কমলাপুর স্টেশনে ‘মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব’ নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও ধারণাগত নকশা তৈরির জন্য পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ কাজে ব্যয় হবে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার কোম্পানির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সচল রাখতে জাপানের এমএইচআই থেকে আরও এক বছরের কারিগরি সেবা নেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হবে ৩৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ত দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল ও মাগুরা টেক্সটাইল মিলকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপির মাধ্যমে পুনরায় চালুর উদ্যোগও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব মিল চালুর জন্য বেসরকারি অংশীদার নির্বাচনের চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য ৪০টি ড্রাইভিং সিমুলেটর সংগ্রহের নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহারিক ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ আরও আধুনিক ও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে।

বৈঠকে ইউরিয়া সার আমদানির জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের সঙ্গে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাবও নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়।

সার্বিকভাবে বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, শিল্প উৎপাদন, কৃষি উৎপাদনের উপকরণ সরবরাহ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলএনজি আমদানির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার উদ্যোগকে বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত