প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের পক্ষে ঋণপত্র (এলসি) খোলার জন্য ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ মার্কিন ডলার ছাড়ের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির জন্য এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে রূপালী ব্যাংকের অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণের অবশিষ্ট ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ ডলার ছাড় এবং নতুন এলসি খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত রোববারও প্রতিষ্ঠানটির জন্য এলসি খোলার ক্ষেত্রে একই ধরনের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে রূপালী ব্যাংকের ঋণ ছাড় ও এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ কক(৩) ধারার বিধান কার্যকর হবে না।
তবে এই বিশেষ ঋণসুবিধার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে, এ ঋণসুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে রূপালী ব্যাংক এই এলসি বাবদ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তাও দাবি করতে পারবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চট্টগ্রামের বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার-১ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে চালু রয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। কাঁচামালের সংকট তৈরি হলে কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থেই খেলাপি অবস্থায় থাকা প্রতিষ্ঠানটিকে এই বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।
কর্মকর্তারা আরও বলেন, অতীতেও জনস্বার্থ, কর্মসংস্থান এবং উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা এলাকায় এস আলম গ্রুপ ও চীনের দুটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে এস আলম গ্রুপের মালিকানা ৭০ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশের মালিক চীনের সেপকো থ্রি ও এইচটিজি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে-বেনামে নেওয়া ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে।
প্রচলিত ব্যাংকিং বিধি অনুযায়ী, খেলাপি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নতুন ঋণ বা এলসি খোলার সুযোগ সীমিত। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখার যুক্তিতে এসএস পাওয়ার-১-এর ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।