প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নাওয়াজের মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি। বৃহস্পতিবার সকালে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় ঢাকায় পৌঁছে কলাবাগানের বাসায় স্বামীর মরদেহ দেখেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে প্রিজন ভ্যানে করে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন দীপু মনি। সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি রাজধানীর কলাবাগানের বাসায় পৌঁছান। সেখানে স্বামীর মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল জানান, এই বাসাতেই দীপু মনির সঙ্গে তৌফিক নাওয়াজের প্রথম দেখা হয়েছিল।
প্যারোলের সময় শেষ হওয়ার আগে বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১২টার পর দীপু মনিকে আবার প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। এর প্রায় ১০ মিনিট আগে তৌফিক নাওয়াজের মরদেহ নিয়ে একটি ফ্রিজার ভ্যান গুলশানের উদ্দেশে রওনা হয়।
গুলশানের আজাদ মসজিদে তৌফিক নাওয়াজের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এর আগে বুধবার দীপু মনিকে প্যারোলে মুক্তির জন্য মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন তার মেয়ে তনী দীপাভলী নাওয়াজ। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দীপু মনিকে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তার প্যারোলের সময় নির্ধারণ করা হয়।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে, যা আগে ইউনাইটেড হাসপাতাল নামে পরিচিত ছিল, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ব্যারিস্টার তৌফিক নাওয়াজ। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তৌফিক নাওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার রাতে তিনি মারা যান।
স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাকে শেষবারের মতো দেখতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে অনুমোদন পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের জন্য কারাগার থেকে বের হওয়ার সুযোগ পান দীপু মনি।
স্বামীর মরদেহ দেখার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়। পরে তৌফিক নাওয়াজের মরদেহ জানাজা ও দাফনের জন্য গুলশান ও বনানীর উদ্দেশে নেওয়া হয়।