ম্যাকাই টেস্টে শরিফুল খেললে বাদ পড়বেন কে

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ডারউইনে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত বাংলাদেশ দল এখন অপেক্ষায় সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের। শনিবার ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে দলের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে একাদশে পেসার শরিফুল ইসলামের জায়গা হবে কি না। তিনি একাদশে ফিরলে বাদ পড়বেন কে—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে না থাকলেও চোট কাটিয়ে দ্বিতীয় টেস্ট খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত শরিফুল। ডারউইনে বাংলাদেশের তিন পেসারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর এবার বাঁহাতি এই পেসারকে একাদশে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।

বুধবার দলের অনুশীলনে শরিফুল নিজেও নিজের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। প্রথম টেস্টে খেলতে না পারা নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শরিফুল বলেন, প্রথম টেস্টে খেলতে না পারাকে তিনি দুর্ভাগ্য হিসেবে দেখছেন না। চোটের পর বিশ্রাম ও পুনর্বাসনের সময় পাওয়ায় বরং তাঁর শরীরের জন্য সেটি ভালো হয়েছে। সতীর্থরা প্রথম টেস্ট জিতলে তিনি দলের সবার মতোই খুশি হয়েছেন বলেও জানান এই পেসার।

তবে দ্বিতীয় টেস্টে একাদশে তাঁর অন্তর্ভুক্তি সহজ সিদ্ধান্ত নয়। ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে মাঠে নেমেছিল। সেই সমন্বয়েই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রেখে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয় দল।

সাধারণত জয়ী একাদশে অযথা পরিবর্তন করতে চায় না বাংলাদেশ। তবে ম্যাকাইয়ের উইকেট ও কন্ডিশন বিবেচনায় একজন বাঁহাতি পেসারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে শরিফুলকে সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে—বাদ পড়বেন কে?

চার পেসার ও এক স্পিনার নিয়ে বাংলাদেশ মাঠে নামলে মেহেদী হাসান মিরাজের একাদশে থাকা প্রায় নিশ্চিত হতে পারে। তখন তাইজুল ইসলামকে বাইরে রেখে শরিফুলকে খেলানোর একটি সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে শেষ পর্যন্ত পিচের চরিত্র ও ম্যাচের কৌশল বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে টিম ম্যানেজমেন্ট।

অর্থাৎ শরিফুলের অন্তর্ভুক্তি শুধু একজন পেসার যোগ করার বিষয় নয়; এর সঙ্গে দলের স্পিন আক্রমণের ভারসাম্যও জড়িয়ে আছে। ডারউইনে দুই স্পিনার নিয়ে সফল হওয়া দলের জন্য সেই সমন্বয় বদলানো ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে।

ম্যাকাই টেস্টের আগে তাই বাংলাদেশের একাদশ নিয়ে কৌতূহল ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে শরিফুলের ফিটনেস, তাঁর বোলিংয়ের প্রস্তুতি এবং অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে বাঁহাতি পেসারের সম্ভাব্য কার্যকারিতা বিবেচনায় তাঁকে দলে নেওয়ার পক্ষে যুক্তিও রয়েছে।

বুধবার অনুশীলনে শরিফুলকে দীর্ঘ সময় বোলিং করতে দেখা গেছে। তাঁর বোলিংয়ের সময় আলাদা করে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। এতে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য তাঁর প্রস্তুতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

এদিকে অনুশীলনে ব্যাটিং করেননি তানজিদ হাসান। তবে দলের সঙ্গে ওয়ার্মআপ ও ফিল্ডিং সেশনে অংশ নিয়েছেন তিনি। সাদমান ইসলামের সঙ্গে ব্যাটিং অনুশীলন শুরু করেন সৌম্য সরকার।

ডারউইনে জয়ের পর বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন সিরিজ জয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ের সুযোগ সামনে থাকায় একাদশ নির্বাচনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শরিফুলের মতো অভিজ্ঞ ও বাঁহাতি পেসারকে দলে ফেরানো হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনো কোনো চূড়ান্ত একাদশ ঘোষণা করা হয়নি। ম্যাচের দিন সকালে পিচ ও কন্ডিশন দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে ম্যাকাইয়ে টসের আগে পর্যন্ত শরিফুল খেলবেন কি না এবং খেললে কাকে বাইরে যেতে হবে—এই প্রশ্নের উত্তর অনিশ্চিতই থাকছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত