প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় সংসদ ভবনের নির্ধারিত স্থানে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ব্যালট গণনা শুরু হবে এবং গণনা শেষে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভোট দিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংসদকক্ষে প্রবেশের সময় প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে সংসদ সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হচ্ছে। ভোট দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের নির্ধারিত আসন অনুযায়ী সংসদকক্ষে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। নিজ আসনে বসার পর সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য সহকারী নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছ থেকে নাম ও নির্বাচনী সংখ্যা সংবলিত ব্যালট পেপার সংগ্রহ করছেন। ব্যালট পেপারের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়িতে নির্ধারিত স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে তা সহকারী নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে ফেরত দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
এরপর ব্যালট পেপারের নির্ধারিত অংশে পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে নির্দিষ্ট স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে ভোট দিতে হচ্ছে। ভোট প্রদান শেষ হলে ব্যালট পেপার সংসদকক্ষে স্থাপিত নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দিতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি যাতে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হয়, সে জন্য নির্বাচনী কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
ভোট দেওয়ার সময় কোনো সংসদ সদস্যের ব্যালট পেপার লেখার ক্ষেত্রে ভুল বা অন্য কোনো কারণে সেটি নষ্ট হয়ে গেলে তা সরাসরি ব্যালট বাক্সে জমা দেওয়া যাবে না। এ ধরনের ব্যালট নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। এরপর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় ভোটকক্ষের পরিবেশ নিয়েও নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। ভোটগ্রহণ চলাকালে সংসদ সদস্যরা কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন না। ভোটকক্ষে কোনো বক্তব্য বা ভাষণ দেওয়ারও সুযোগ নেই। এর ফলে ভোটগ্রহণের পুরো সময় সংসদকক্ষে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভোট প্রদানের সময় কোনো সংসদ সদস্য সমস্যার মুখোমুখি হলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য চিফ হুইপ ও বিরোধী দলের চিফ হুইপের সহায়তা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যালট পেপারে ভোটারের পূর্ণ স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ থাকলেও সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে স্বাক্ষরের পরিবর্তে পূর্ণ নাম লিখতে হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে অনুষ্ঠিত হয়। এবার মোট ৩৪৯টি ভোট রয়েছে। সংসদ ভবনের নির্ধারিত বুথে আসন নম্বর অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা ভোট প্রদান করছেন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরই শুরু হবে ভোট গণনার কার্যক্রম।
নির্ধারিত সময় বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগেই যদি সব যোগ্য ভোটার ভোট দিয়ে ফেলেন, তাহলে নির্ধারিত সময়ের আগেও গণনা শুরু করা যেতে পারে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কর্মকর্তারা প্রথমে মোট কতজন সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন, কতটি ব্যালট বৈধ হয়েছে, কতটি ব্যালট বাতিল হয়েছে এবং কতটি ব্যালট অব্যবহৃত রয়েছে—এসব হিসাব করবেন।
এরপর বৈধ ব্যালটগুলো থেকে প্রত্যেক প্রার্থী কতটি ভোট পেয়েছেন, তা গণনা করা হবে। গণনা শেষে সর্বাধিক বৈধ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন নির্বাচন কর্মকর্তা। পরে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের এই প্রক্রিয়া জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে কে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, তা নির্ধারণে সংসদ সদস্যদের ভোটই মূল ভূমিকা পালন করবে। ফলে সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ভোটগ্রহণের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন পুরো প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ব্যালট গ্রহণ থেকে শুরু করে ভোট প্রদান, ব্যালট বাক্সে জমা, গণনা এবং ফল ঘোষণা—প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ভোট গণনা শেষে বৈধ ভোটের হিসাবের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হবে। সর্বাধিক বৈধ ভোট পাওয়া প্রার্থীই নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা পাবেন।
আজকের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে নতুন ব্যক্তির দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হবে।