যুদ্ধবিরতির বদলে ইউক্রেনে নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুতিন: জেলেনস্কির অভিযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৭ বার

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ । আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কোনো যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন না; বরং ইউক্রেনে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন। সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক কমান্ডারদের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, রাশিয়া তাদের সেনা ও যুদ্ধ সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাস করছে, যা নতুন আক্রমণের সরাসরি ইঙ্গিত বহন করছে।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ১৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে নির্ধারিত শান্তি বৈঠক। জেলেনস্কির দাবি, পুতিন এ বৈঠককে নিজের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চান, কিন্তু বৈঠকের পরও যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। তাঁর ভাষায়, “তিনি নিশ্চিতভাবেই কোনো যুদ্ধবিরতি বা সংঘাতের অবসানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন না।” জেলেনস্কি আরও বলেন, শান্তির জন্য প্রস্তুতি নিতে হলে সেনাবাহিনীকে পুনর্গঠন ও নতুন আক্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ইউক্রেনের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী রণাঙ্গনের মুখপাত্র ভ্লাদিস্লাভ ভলোশিন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রাশিয়া জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে কিছু সামরিক ইউনিট সরিয়ে নিচ্ছে, যা সম্ভবত নতুন হামলার জন্য কৌশলগত অবস্থান নিশ্চিত করার অংশ। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, যুদ্ধের অবসানের জন্য ইউক্রেনকে কিছু অঞ্চল রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দিতে হবে। তবে কিয়েভ প্রশাসন এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

জেলেনস্কি এক্স (পূর্বে টুইটার)–এ দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, “রাশিয়া হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে অস্বীকার করছে, তাই তাদের কোনো ধরনের পুরস্কার বা সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।” তাঁর মতে, রাশিয়াকে একবার ছাড় দিলে তারা সংঘাত বন্ধ করবে না, বরং আরও আগ্রাসী হয়ে উঠবে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যৌথভাবে মত দিয়েছেন যে, কোনো শান্তিচুক্তি কিয়েভের সম্মতি ছাড়া চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। তারা জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে, এবং আন্তর্জাতিক সমাজকে এমন কোনো সমাধান চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয় যা ইউক্রেন মেনে নেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, আলাস্কার বৈঠক যদি অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে তা হবে সংঘাতের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্ত। তবে পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যকার আলোচনার ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে যুদ্ধের গতিপথ বদলাবে কি না। জেলেনস্কির এই সাম্প্রতিক অভিযোগ নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে যে, আলোচনার আড়ালে হয়তো আরও ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে, যা ইউক্রেনের জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত