চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে শফিকুর রহমানের বৈঠক

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১০ বার
চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে শফিকুর রহমানের বৈঠক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব শেষে বিদায় নেওয়ার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে দুই পক্ষই বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

বৈঠকসংশ্লিষ্ট প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে উন্নয়ন, বাণিজ্য ও পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলোতে দুই দেশ ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বহুমাত্রিক। অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিল্প ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা রয়েছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়েও দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও উচ্চপর্যায়ের সফর হয়ে থাকে। ফলে একজন বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎও দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে যোগাযোগ ও সংলাপের পরিবেশ তৈরিতে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ও পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা ছিল ইতিবাচক। এ জন্য তাঁকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক দলটির বক্তব্যকে দলীয় মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বৈঠকে আলোচিত অন্যান্য বিষয়গুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক সমঝোতার কথা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। ফলে রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা নিয়ে জামায়াত নেতাদের বক্তব্যকে বৈঠকের অংশগ্রহণকারী একটি পক্ষের মূল্যায়ন হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

বৈঠকে চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিউ ইউয়িন, কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং, অ্যাটাচে লিয়াং শুয়িং এবং পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স অ্যাটাচে ওয়াং ডাউয়েই উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে দলের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতা উপস্থিত ছিলেন।

ইয়াও ওয়েনের বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময় দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ হয়েছে। তাঁর বিদায়ী সাক্ষাৎপর্বের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকও হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের আগের দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তিনি বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে চীনা বিনিয়োগ ও সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের জন্য চীনা বাজার, আমদানি-রপ্তানি ভারসাম্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মতো বিষয়ও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়েও ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের গুরুত্ব রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান, আঞ্চলিক সহযোগিতা, উন্নয়ন এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক যোগাযোগ নিয়মিত আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিদেশি বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর যোগাযোগও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের বৈঠক সাধারণত বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় ও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে। তবে কোনো সৌজন্য বা বিদায়ী সাক্ষাতের আলোচনাকে সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, অবস্থান পরিবর্তন বা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির সঙ্গে সমান করে দেখার সুযোগ নেই, যদি না সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।

ইয়াও ওয়েনের বিদায়ী সাক্ষাতে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে যে আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার ধারাবাহিকতার অংশ। ভবিষ্যতে নতুন রাষ্ট্রদূত দায়িত্ব গ্রহণের পরও বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের আলোচনাও চলবে।

বৈঠকের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে দলীয় ও কূটনৈতিক পর্যায়ে বিভিন্ন আলোচনা তৈরি হলেও প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী সাক্ষাতের মূল বিষয় ছিল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বকালীন ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

একজন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার আগে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ কূটনৈতিক রীতির একটি পরিচিত অংশ। এ ধরনের সাক্ষাতে বিদায়ী কূটনীতিক তাঁর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে এ ধরনের যোগাযোগের গুরুত্ব রয়েছে।

মিন্টো রোডের এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের একটি পর্ব শেষ হলো, অন্যদিকে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের প্রত্যাশার কথাও সামনে এলো। এখন নতুন কূটনৈতিক নেতৃত্বের অধীনে দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগ কীভাবে এগোয়, সেদিকেই থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের নজর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত