ইউরোপে দাবানল ও তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত, প্রাণহানি ৩

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ৭৩ বার
ইউরোপে দাবানল ও তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত, প্রাণহানি ৩

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ও তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই অন্তত তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি, ফ্রান্স, গ্রিস, তুরস্ক, আলবেনিয়া, মন্টিনেগ্রো ও ক্রোয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে, কোথাও কোথাও তা আরও বেশি।

আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতায় জানা গেছে, ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল ও বলকান অঞ্চলে জারি করা হয়েছে ‘রেড হিট অ্যালার্ট’। স্পেনের সেভিয়া ও কর্দোভায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কঠিন করে তুলেছে। মাদ্রিদের কাছে ত্রেস কান্তোস এলাকায় ভয়াবহ দাবানলে প্রাণ হারিয়েছেন এক ঘোড়াশাল কর্মী। ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া প্রবল বাতাস দাবানলকে দ্রুত আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে দেয়, যার ফলে কাস্তিয়া ও লিওন অঞ্চলে প্রায় চার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আন্দালুসিয়ার তারিফা এলাকায় হোটেল ও বাড়ি থেকে আরও দুই হাজার মানুষকে স্থানান্তরিত করা হয়। দাবানল নিয়ন্ত্রণে এক হাজারের বেশি সেনা মাঠে কাজ করছেন।

পর্তুগালে তিনটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে চলছে তীব্র প্রচেষ্টা। ট্রানকোসো অঞ্চলের আগুন আংশিক নিয়ন্ত্রণে এলেও পরিস্থিতি এখনো বিপজ্জনক। আগুন নেভাতে এক হাজার ৩০০ দমকলকর্মী ও ১৪টি অগ্নিনির্বাপণ বিমান কাজ করছে। প্রতিবেশী দেশ মরক্কো থেকেও সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

ইতালিতে গরমে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে—সার্ডিনিয়ায় একটি গাড়ির ভেতরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া ৪ বছরের এক রোমানিয়ান শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়। বর্তমানে রোম, মিলান ও ফ্লোরেন্সসহ অন্তত ১০টি শহরে রেড অ্যালার্ট কার্যকর রয়েছে। ফ্রান্সের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকায়ও তাপমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যেখানে প্যারিস অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি এবং রোন উপত্যকায় ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে।

গ্রিসে দাবানল পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ১৫০টিরও বেশি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। জাকিনথোস দ্বীপ ও পশ্চিম আচাইয়া অঞ্চল থেকে ব্যাপক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, এবং উপকূলীয় এলাকাগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। চিওস দ্বীপে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করতে নৌকা পাঠানো হয়েছে।

তুরস্কে চানাক্কালে ও ইজমিরসহ বেশ কয়েকটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ভয়াবহ। মন্টিনেগ্রোতে আগুন নেভানোর সময় এক সেনার মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি আলবেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া এবং অন্যান্য বালকান দেশগুলোতেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।

যুক্তরাজ্যেও বছরের চতুর্থ তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যেখানে তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। লন্ডনে দুটি বড় ঘাসের আগুনে প্রায় ১৭ একরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের গ্রীষ্ম ক্রমেই উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে উঠছে, যা দীর্ঘস্থায়ী ও আরও তীব্র দাবানল মৌসুমের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এ ধরনের দুর্যোগ ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত