ইসরাইলের চার কৌশলগত স্থাপনায় হুথিদের ড্রোন হামলার দাবি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬১ বার
ইসরাইলের চার কৌশলগত স্থাপনায় হুথিদের ড্রোন হামলার দাবি

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ইয়েমেনের হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা ইসরাইলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির ভাষ্যমতে, গাজায় চলমান ইসরাইলি সামরিক অভিযান এবং নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো “নৃশংসতা”র জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল— হাইফা বন্দর, নেগেভ অঞ্চল, উম্ম আল-রশরাশ (আইলাত) এবং বিরসেবা শহর।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, অভিযানে ছয়টি ড্রোন ব্যবহার করা হয় এবং সবগুলোই নির্ধারিত লক্ষ্যে সফলভাবে আঘাত হানে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধ না হলে এবং অবরোধ না তুলে নিলে আমাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

যদিও হামলার বিষয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, বিশ্লেষকরা বলছেন— হাইফা বন্দর ও নেগেভ অঞ্চলের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

গাজার পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৭৩ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩১ জন ছিলেন ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষ। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ৫১৩ জন। অনাহারেও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে— খাবারের অভাবে আরও পাঁচজন মারা গেছেন, যার মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এ নিয়ে গাজায় অনাহারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৭ জনে, যার মধ্যে ১০৩ জন শিশু।

গত কয়েক মাসে হুথিরা প্রায় নিয়মিতভাবেই ইসরাইলের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। তবে কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাইফা বন্দরে হামলার দাবি এবারই সবচেয়ে বড় ধরনের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে এবং গাজায় যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত