প্রকাশ: ১৩ আগস্ট । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
গাজা উপত্যকাকে সম্পূর্ণরূপে দখলের ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ইসরায়েলের যুদ্ধ মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাকে পুরোপুরি দখল করার উদ্যোগ, যা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার বিরোধী এবং ‘গ্যাংস্টারসুলভ মানসিকতার’ এক প্রমাণ। তিনি উল্লেখ করেন, গাজা ফিলিস্তিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ইসরায়েলের এই আগ্রাসন মানবিক সংকটকে আরো জটিল করে তুলছে।
মুখপাত্র আরো বলেন, ইসরায়েল যেন অবিলম্বে ফিলিস্তিনিদের ওপর অবৈধ সশস্ত্র হামলা বন্ধ করে এবং গাজা থেকে সম্পূর্ণ সরে দাঁড়ায়। তিনি এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধাক্কা পড়েছে বলে মন্তব্য করেন।
বর্তমানে গাজায় ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, ৬১ হাজার ৫০০-এরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে রয়েছেন অনেকে এবং মৃতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, হতাহতের সংখ্যা দুই লাখের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
ইসরায়েলের হামলার কারণে গাজার অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন অবস্থায় আছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ও বিশ্ব সম্প্রদায়কে গভীর উদ্বেগে ফেলেছে।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। পাশাপাশি, ইসরায়েল গাজায় পরিচালিত সাম্প্রতিক যুদ্ধের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) গণহত্যার মামলার মুখোমুখি রয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার এই তীব্র প্রতিক্রিয়া বিশ্বব্যাপী গাজা সংকটের মানবিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের মাত্রা তুলে ধরে, যা এখনও সমাধান থেকে অনেক দূরে। বিশ্ব সম্প্রদায়কে এই সংকটের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাতে গাজার জনগণ নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।