প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক।একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট এলাকায় অবৈধভাবে উত্তোলিত সাদা পাথর বোঝাই ১২০টি ট্রাক জব্দ করেছে যৌথবাহিনী। বুধবার রাতভর দুটি পৃথক তল্লাশিচৌকি বসিয়ে এ অভিযান চালানো হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দ করা এসব পাথর প্রক্রিয়াজাত করে আবার সাদা পাথরে প্রতিস্থাপন করা হবে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আজিজুন্নাহার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, পাথর উত্তোলন ও পরিবহনে চলমান নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কোয়ারি ও সংরক্ষিত এলাকাগুলোতে অবৈধভাবে পাথর তোলার প্রবণতা বাড়ছিল। এ পরিস্থিতিতে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, যাতে রাতের আঁধারে বা ভোরের দিকে পাথর পাচারের কোনো সুযোগ না থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই সিলেট জেলার ৮টি সরকারি পাথরকোয়ারি ও কোয়ারিবহির্ভূত আরও ১০টি এলাকা থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পাথর লুটপাট শুরু হয়। প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ায় অসাধু সিন্ডিকেটগুলো সুযোগ নিয়ে দিন-রাত পাথর উত্তোলন ও পাচার চালিয়ে যায়। এতে শুধু সরকারি রাজস্ব ক্ষতিই হয়নি, বরং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে।
বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা, ভোলাগঞ্জ পাথরকোয়ারি ও সংরক্ষিত বাঙ্কার এলাকা। পাশাপাশি, গোয়াইনঘাটের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া – ইসিএ) জাফলং ও পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দিতেও ব্যাপক পাথর লুট হয়েছে। এসব অঞ্চলে অবাধ পাথর উত্তোলনের ফলে পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীর প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে এবং মাছসহ জলজপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ পাথর বাণিজ্যে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ভঙ্গের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। অভিযান পরিচালনাকারী যৌথবাহিনী বলছে, কোয়ারি ও সংলগ্ন এলাকায় এ ধরনের নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে কোনোভাবেই অবৈধ পাথর পাচার সম্ভব না হয়।
পরিবেশবিদরা মনে করছেন, কেবল পাথর জব্দ করাই যথেষ্ট নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে কোয়ারি এলাকাগুলোতে টেকসই ব্যবস্থাপনা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমেই অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব হবে।