‘রক্ত আর পানি একসঙ্গে বইতে পারে না’: পাকিস্তানের উদ্দেশে মোদির কড়া বার্তা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৬ বার

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ‘ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভারতের স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে আজ এক কঠোর ভূরাজনৈতিক বার্তা দিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা থেকে দেওয়া জাতীয় ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু নদ পানি বণ্টন চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যাহার করা হবে না। তার ভাষায়, “রক্ত আর পানি একসঙ্গে বইতে পারে না”—এ বক্তব্য শুধু প্রতীকী নয়, বরং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান অবস্থার বাস্তব প্রতিচ্ছবি।

মোদি তার ভাষণে বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি ভারতের জন্য অন্যায্য ও একতরফা ছিল, যা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, “ভারতের মাটি দিয়ে যে নদী প্রবাহিত হয়, তার পানি ব্যবহারের অধিকার কেবল ভারতীয়দের।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষক ও দেশের সার্বিক কল্যাণে এমন কোনো সমঝোতা ভারত মেনে নিতে পারে না যা তার নিজের জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে। এই ঘোষণা কার্যত পাকিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা যে, ইসলামাবাদের অনুরোধ কিংবা আন্তর্জাতিক চাপে নয়াদিল্লি তার সিদ্ধান্ত বদলাবে না।

সিন্ধু পানি চুক্তি ১৯৬০ সালে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী শতদ্রু, বিপাশা ও রবি নদীর পানি ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার ভারতের হাতে ছিল, আর সিন্ধু, ঝিলম ও চন্দ্রভাগা নদীর অধিকাংশ পানির অধিকার ছিল পাকিস্তানের। এই চুক্তি পাকিস্তানকে বিশেষভাবে সুবিধা দিয়েছিল—বিশেষ করে বিতস্তা ও চন্দ্রভাগার পানির ৮০ শতাংশ ব্যবহারের অধিকার ছিল পাকিস্তানের, যেখানে ভারতের ভাগ ছিল মাত্র ২০ শতাংশ। যদিও ভারত শর্তসাপেক্ষে বাঁধ নির্মাণ করতে পারত, তবুও পাকিস্তান প্রায়শই এসব অবকাঠামো প্রকল্পে আপত্তি জানাত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, এই চুক্তি বহু বছর ধরেই ভারতের উন্নয়ন ও কৃষি-সেচ ব্যবস্থার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চুক্তি বাতিলের বর্তমান প্রেক্ষাপট তৈরি হয় গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগাওয়ে সংঘটিত এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর, যেখানে ২৬ জন নিরীহ মানুষ নিহত হন। ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে এ হামলার জন্য দায়ী করে এবং পাল্টা সামরিক অভিযান চালায়। হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই নয়াদিল্লি ঘোষণা দেয়, সিন্ধু পানি চুক্তি আর বহাল থাকবে না। পাকিস্তান এরপর একাধিকবার কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে চুক্তি পুনর্বহালের আবেদন জানালেও ভারতীয় পক্ষ কোনো সাড়া দেয়নি।

এই চুক্তি পাকিস্তানের কৃষি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ সিন্ধু ও তার উপনদীগুলোর পানি দেশটির কৃষি উৎপাদনের প্রধান উৎস। চুক্তি বাতিল হওয়ায় পাকিস্তানের খাদ্যনিরাপত্তা, সেচ ব্যবস্থা ও পানীয় জলের সরবরাহে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে ভারত যদি নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আরও বাঁধ ও জলাধার নির্মাণ করে, তবে তা পাকিস্তানের নিম্নাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে পানির ঘাটতি তীব্র করে তুলতে পারে।

মোদির স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ তাই কেবল একটি প্রতীকী ঘোষণা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী পানি-ভিত্তিক কূটনৈতিক ও কৌশলগত টানাপোড়েনের নতুন অধ্যায়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং সিন্ধু নদভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনার আন্তর্জাতিক নীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তান এখন আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তা চাওয়ার পাশাপাশি চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিস প্রক্রিয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ না করলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ‘রক্ত আর পানি একসঙ্গে বইতে পারে না’—মোদির এই বাক্যটি তাই সীমান্ত পেরিয়ে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখারও ইঙ্গিত বহন করছে।

আপনি চাইলে আমি এ রিপোর্টে সিন্ধু চুক্তির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, পানি রাজনীতির ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার আরও গভীর ব্যাখ্যা যুক্ত করতে পারি, যাতে সংবাদটি আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণধর্মী হয়ে ওঠে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত