প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি দাবি করেছেন, গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনী ছয়টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে এবং এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। রবিবার লাহোরে এক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ দাবি করেন। পাকিস্তানি দৈনিক ডন জানায়, ভূপাতিত বিমানের মধ্যে ফ্রান্সে নির্মিত রাফায়েল জেটও রয়েছে বলে নাকভি উল্লেখ করেন।
এ প্রসঙ্গে ভারতের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার সেনা জেনারেল স্বীকার করেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে তাদের কিছু বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী ছয়টি বিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। এই বিতর্কিত দাবি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ককে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করেছে।
গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সশস্ত্র হামলায় ২৫ জন পর্যটক এবং স্থানীয় এক ঘোড়াচালক নিহত হন। ওই হামলার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নয়াদিল্লি অভিযোগ তোলে যে, এ হামলার সঙ্গে ইসলামাবাদের প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে। তবে পাকিস্তান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। পেহেলগামের ঘটনায় সৃষ্ট চাপ ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের জেরে উভয় দেশের সীমান্তজুড়ে সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পরবর্তীতে সীমান্তের বাইরে গিয়ে বিমান হামলা এবং ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে রূপ নেয়।
লাহোরে আয়োজিত সেমিনারে নাকভি বলেন, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে একাধিক ঘটনায় তিনি প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন এবং অনেক গোপন তথ্য তার কাছে এসেছে। তার দাবি, “আমাদের সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও সরকার ইতোমধ্যেই তাদের কাজের স্বীকৃতি পেয়েছে, কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অবদান অনন্য এবং তাদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।”
তিনি জানান, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক আগে থেকেই ভারতের পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য রাখত। ভারত কোন ধরণের বিমান ব্যবহার করবে এবং কী কৌশল নেবে, তা তারা পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হয়েছিল। নাকভির মতে, এই তথ্য সংগ্রহ ও সতর্কতার কারণেই পাকিস্তানি বাহিনী সফলভাবে ভারতের বিমান ভূপাতিত করতে পেরেছে।
নাকভি আরো বলেন, বিমান ভূপাতিত হওয়ার পরপরই কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কারণ, তখন হাতে শুধু রাডারের তথ্য ছিল, কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরাসরি প্রমাণের প্রয়োজন ছিল। তার ভাষায়, “কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমাদের হাতে ভিডিও ফুটেজ চলে আসে। এতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, ছয়টি ভারতীয় বিমান ভূপাতিত হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, এই ভিডিও প্রমাণ আজও পাকিস্তানের হাতে রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও একটি ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে পাকিস্তানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভারতের ছোড়া সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ওই হামলার বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে।
এই সাম্প্রতিক দাবি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও পারস্পরিক সন্দেহকে নতুন মাত্রা দিল। আন্তর্জাতিক মহল বিশেষ করে জাতিসংঘ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো ইতোমধ্যেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি পাকিস্তানের কাছে সত্যিই এমন ভিডিও প্রমাণ থাকে এবং তা প্রকাশ করা হয়, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। অন্যদিকে, ভারত এই দাবিকে রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে দেখছে এবং বরাবরের মতো পাকিস্তানকেই দোষারোপ করছে।
দুই প্রতিবেশী পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে এই উত্তেজনা নতুন করে বড় কোনো সংঘাত ডেকে আনবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত উভয় দেশই কূটনৈতিক মহলে সরাসরি আলোচনার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।