অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ, গর্তে দাঁড় করিয়ে ছেলেকে বড় করছেন মা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৮ বার

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় এক চা-শ্রমিক পরিবারের তিন বছরের প্রতিবন্ধী শিশু গোপাল সাঁওতাল জন্মের পর থেকেই শারীরিকভাবে স্বাভাবিকভাবে বসতে বা দাঁড়াতে পারছে না। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত চিকিৎসা করানো সম্ভব না হওয়ায় মা সনচড়ি সাঁওতাল বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে ঘরের মেঝেতে তৈরি ছোট একটি গর্তে শিশুটিকে দাঁড় করিয়ে খাওয়াচ্ছেন এবং তার দৈনন্দিন পরিচর্যা করছেন। শিশুটি যখন ক্ষুধার কারণে প্রচণ্ড কান্না করে, তখনই তাকে গর্তে দাঁড় করিয়ে খাওয়ানো হয়, যাতে সে নিজেকে ভাঁজ না করে এবং সামান্য হলেও স্থিতিশীল থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপাল সাঁওতালের মা সনচড়ি সারাক্ষণ সন্তানের খাওয়া-দাওয়া, পরিচর্যা ও ঘরের কাজ সামলান, যখন বাবা অনিল সাঁওতাল চা-বাগানে কাজ করেন। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সিলেটের খাদিমনগরের একটি সামাজিক প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হলেও নিয়মিত ফিজিওথেরাপি করানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসক শিশুটির উন্নতির জন্য ধারাবাহিক ফিজিওথেরাপির পরামর্শ দিয়েছেন।

মা সনচড়ি সাঁওতাল জানান, “ছেলেটির কান্না ও কষ্ট সহ্য করা খুবই কঠিন। তাই বুদ্ধি করে গর্তটি করেছি। এতে সে সামান্য হলেও দাঁড়াতে পারে। সামর্থ্য থাকলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনে আনতাম, যা প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি।’’ বাবা অনিল সাঁওতালও বলেন, “আমাদের একমাত্র চাওয়া, একদিন সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারুক এবং স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারুক।”

স্থানীয় শিক্ষক সঞ্চয় দেবনাথ জানান, “শিশুটিকে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো অত্যন্ত জরুরি। সরকারি বা সমাজিক সহায়তার মাধ্যমে ধারাবাহিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা উচিত।”

এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, শিশুটির জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা খুব শিগগির করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সরকারি চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গোপাল সাঁওতালের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকে সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত