দুদক এনবিআরের ১৭ কর্মকর্তার সম্পদের হিসাব চেয়েছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৭ বার

১৯ আগস্ট ২০২৫ |  নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ১৭ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁদের সম্পদ বিবরণী চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির তথ্যানুসন্ধান প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের প্রমাণ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন সম্পদের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এসব কারণে কমিশন তাঁদের কাছ থেকে বিস্তারিত সম্পদ ও দায়দেনার হিসাব বিবরণী চেয়ে নোটিশ জারি করেছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, যেসব কর্মকর্তার সম্পদ বিবরণী চাওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এনবিআরের সদস্য মো. লুৎফুল আজিম, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (সিআইসি) মো. আলমগীর হোসেন, যুগ্ম কমিশনার মো. তারিক হাসান, অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার কাজী মো. জিয়া উদ্দিন, রেলওয়ে কাস্টমসের কমিশনার মো. কামরুজ্জামান, বৃহৎ করদাতা ইউনিটের ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুর রশিদ মিয়া, কর অঞ্চল ১৬-এর উপকর কমিশনার মোহাম্মদ শিহাবুল ইসলাম, কর অঞ্চল ৮-এর অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা, বিসিএস কর একাডেমির যুগ্ম কর কমিশনার মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিন খান, কর অঞ্চল ১৬-এর উপকর কমিশনার মোনালিসা শাহরিন সুস্মিতা, সদস্য (আয়কর নীতি) এ কে এম বদিউল আলম, নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (ভ্যাট) অতিরিক্ত কমিশনার হাসান তারেক রিকাবদার, অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ মামুন মিয়া, গোয়েন্দা ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার সাহেলা সিদ্দিক, কর আপিলেট ট্রাইব্যুনালের কমিশনার লোকমান আহমেদ এবং কর অঞ্চল ৩-এর কর কমিশনার এম এম ফজলুল হক।

দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, তদন্তে দেখা গেছে কিছু কর্মকর্তা তাঁদের নিজ নামে, আবার কারও পক্ষে অন্য নামে এমন সম্পদ অর্জন করেছেন, যা বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুদকের লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি সুরক্ষিত রাখা এবং জনস্বার্থে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা যদি অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।

এই ঘটনায় প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, উচ্চপদস্থ কর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকের এমন পদক্ষেপ দুর্নীতি দমনে ইতিবাচক বার্তা দেবে। তবে একইসঙ্গে এটিও নিশ্চিত করতে হবে যে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ থাকে, যাতে কোনো নির্দোষ কর্মকর্তা হয়রানির শিকার না হন।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত