প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন
প্রবল বৃষ্টিপাত ও বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্য। বিশেষ করে মুম্বাইসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি ঢলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যা ও বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে নান্দেড় জেলায় এখনও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছে দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজে নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দিচ্ছে।
মহারাষ্ট্রে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর ১৮টি এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ)-এর ছয়টি দল মোতায়েন করা হয়েছে। এসডিআরএফ ইতোমধ্যে নান্দেড় জেলার মুখেদ তালুক থেকে ২৯৩ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। বাকি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা দিনরাত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তা ও আশ্রয় দেওয়ার জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
আবহাওয়ার দপ্তর জানায়, সোমবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মাত্র ২৪ ঘণ্টায় মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। ভিখরোলিতে সর্বাধিক ২৫৫ দশমিক ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বাইকুল্লায় ২৪১ মিলিমিটার, সান্তাক্রুজে ২৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার, জুহুতে ২২১ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং বান্দ্রায় ২১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির কারণে মুম্বাই শহরের অনেক জায়গায় কোমর থেকে হাঁটু সমান পানি জমে গেছে। এতে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। গণপরিবহন, সড়ক যোগাযোগ এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও সতর্ক করেছে যে মুম্বাইসহ মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় আগামী বুধবার এবং বৃহস্পতিবারও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। নতুন করে বৃষ্টিপাত হলে দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই বর্ষণ কেবল শহুরে জলাবদ্ধতাই নয়, গ্রামীণ অঞ্চলেও ফসলের ক্ষতি ও নদীভাঙনের মতো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রবল বর্ষণের কারণে মুম্বাইয়ের বহু এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের অযথা বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের জন্য নৌকা এবং বিকল্প যানবাহন ব্যবহারের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রে প্রতিবছর বর্ষাকালে প্রবল বর্ষণ ও বন্যা দেখা দিলেও এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে মুম্বাইয়ের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা একসঙ্গে দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে বহুগুণ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্রের জনগণ এখন প্রকৃতির এক ভয়াবহ পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য। তবে প্রবল বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।