প্রকাশ: ২২ আগস্ট ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক নজিরবিহীন পদক্ষেপের মাধ্যমে ৫ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি বিদেশীর ভিসা রেকর্ড খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে, যাদের কাছে বৈধ মার্কিন ভিসা আছে এবং যারা কোনোভাবে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে যাদের বহিষ্কার করার সুযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা চালানো হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর প্রকাশ করেছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের এক লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া, নথিপত্রে অসঙ্গতি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করা কিংবা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সম্পৃক্ততার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের ভিসা বাতিল করা হবে। যদি তারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন, তবে তাদের অবিলম্বে বহিষ্কার করা হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “আমাদের হাতে থাকা সব তথ্য পর্যালোচনা করে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ ঘোষণা এলো, যখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বাণিজ্যিক ট্রাক চালকদের জন্য সব ধরনের কর্মী ভিসা অবিলম্বে স্থগিত করার ঘোষণা দেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে দাবি করেন, বিদেশী ট্রাক চালকরা যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জীবনকে বিপন্ন করছেন এবং মার্কিন ট্রাক চালকদের জীবিকা হুমকির মুখে ফেলছেন। তার এই ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিসাধারীদের রেকর্ড খতিয়ে দেখার ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
চলতি বছরের শুরু থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী কড়াকড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর আগে সরকার দাবি করেছিল যে কেবলমাত্র বিপজ্জনক অপরাধীদেরই লক্ষ্যবস্তু করা হবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তুলছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হচ্ছেন এবং বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, চলতি বছরেই প্রায় চার লাখ মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে।
শুধু অবৈধ অভিবাসীরাই নয়, বৈধ ভিসাধারীরাও অভিযানের আওতায় আসছেন। নির্মাণ সাইট, রেস্তোরাঁ, খামার, এমনকি আদালত প্রাঙ্গণেও নজিরবিহীন অভিযানের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি যারা দেওয়ানি আদালতে বৈধ মর্যাদা পাওয়ার জন্য শুনানিতে হাজির হচ্ছেন, তাদেরও গ্রেপ্তার করছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। এর ফলে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
একইভাবে শিক্ষা ভিসাধারীদের ক্ষেত্রেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই সপ্তাহের শুরুতে জানায়, চলতি বছর প্রায় ছয় হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এদের মধ্যে অনেকেরই কাগজপত্রে অসঙ্গতি ছিল অথবা তারা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেছেন। শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
অভিবাসন ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কিত বিষয়। ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বৈধ ভিসাধারীদেরও নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে। পাশাপাশি অভিবাসী নির্ভর অর্থনৈতিক খাতগুলোতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য ভিন্ন। তাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জননিরাপত্তা রক্ষাই সর্বাগ্রে বিবেচ্য। এজন্য কোনো আপস করা হবে না। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিষয়ক নীতি আগামী দিনে আরও কঠোর হবে এবং বৈধ মর্যাদাধারী অভিবাসীরাও আগের চেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বেন।