প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় সরকারি বরাদ্দের চালের অবৈধ মজুত ও পাচার প্রতিরোধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। উপজেলার এনায়েতপুর এলাকায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ অভিযানে ৩৫ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়। প্রতিটি বস্তায় ৩০ কেজি করে মোট ১ হাজার ৫০ কেজি চাল ছিল।
চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয় নৌকা ঘাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সন্দেহজনকভাবে রাখা চালের বস্তাগুলো জব্দ করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
জব্দকৃত চালের বস্তাগুলোতে সরকারি চালের ছাপ ও চিহ্ন ছিল, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে এগুলো ভর্তুকি মূল্যে দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চাল। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, কিছু অসাধু ব্যক্তি এসব চাল কম দামে ক্রয় করে কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহন করছিল।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া চালগুলো বর্তমানে স্থানীয় সৌদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. পরান বেপারীর জিম্মায় রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে এগুলো উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চৌহালী উপজেলা প্রশাসন জানায়, সরকারি ভর্তুকি মূল্যের চাল কালোবাজারে বিক্রি রোধে তারা নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এনায়েতপুর ও আশপাশের এলাকায় ভর্তুকি মূল্যের চাল পাচারের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অনেকেই মনে করেন, সঠিকভাবে মনিটরিং না থাকার কারণে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে।
অভিযান-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “সরকারের দেওয়া চাল দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ করা হয়। অসাধু চক্র যদি সেটি কালোবাজারে বিক্রি করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও আশ্বাস দেন, প্রশাসনের অভিযানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত না হন।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও তারা আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। তাঁদের মতে, কেবল চাল জব্দ করাই যথেষ্ট নয়, বরং যারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
চাল জব্দের এ ঘটনাটি শুধু সিরাজগঞ্জ নয়, বরং দেশের বিভিন্ন স্থানে ভর্তুকি মূল্যের সরকারি চাল পাচারের ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য বরাদ্দ করা এই চাল যখন কালোবাজারে বেচাকেনার পণ্য হয়ে ওঠে, তখন তা শুধু সরকারি সহায়তার উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করে না, বরং নৈতিক ও সামাজিক সংকটকেও প্রকট করে তোলে।
চৌহালীতে সরকারি চাল জব্দের ঘটনাটি তাই আবারও প্রশ্ন তুলেছে—এমন অসাধু কর্মকাণ্ড কতদিন চলবে এবং কত দ্রুত এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।










