প্রকাশ: ২৩ অগাস্ট ’২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন, তাদের কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিনগুলো এমন প্রযুক্তিতে সজ্জিত যে সেগুলো আর্কটিকের বরফের নিচে গোপনে চলাচল করতে সক্ষম এবং বিদেশি রাডার সেগুলোর গতিবিধি শনাক্ত করতে পারে না। শুক্রবার মস্কোর পূর্বাঞ্চলীয় শহর সারোভে পারমাণবিক খাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
পুতিন বলেন, রাশিয়ার প্রতিরক্ষায় আর্কটিক অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে সাবমেরিনগুলো রাডার এড়িয়ে সাগরতলে চলাচল করতে পারে, যা রাশিয়ার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সামরিক সুবিধা। তাঁর ভাষ্যে, “আমাদের কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিনগুলো আর্কটিকের বরফের নিচে ডুবে গিয়ে রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। এটাই আমাদের প্রতিরক্ষার অন্যতম শক্তি।”
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন, সামরিক গুরুত্ব ছাড়াও আর্কটিক অঞ্চলের ওপর গবেষণা ও অনুসন্ধান প্রয়োজন। বরফ গলার ফলে যে নতুন শিপিং রুট বা নৌপথ তৈরি হচ্ছে, তা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এই সুযোগকে রাশিয়া তার প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হিসেবে দেখছে। পুতিন বলেন, “এটি আমাদের জন্য এক বিশেষ সুবিধা, কারণ বহু দেশ এসব নৌপথ ব্যবহার করতে আগ্রহী। আর রাশিয়াই একমাত্র দেশ যার নিজস্ব পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার বহর রয়েছে।”
আর্কটিককে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপীয় কয়েকটি দেশ তাদের সামরিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। এর মধ্যে রাশিয়া নিজস্ব প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে সেখানে এগিয়ে থাকতে চায়। আর্কটিকের ভৌগোলিক অবস্থান শুধু নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন রুট হিসেবেও আগামী দশকগুলোতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আসতে চলেছে।
রাশিয়া ইতিমধ্যে ২০০০ সালের পর থেকে আটটি বোরেই শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরি করেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ সাবমেরিন কনিয়াজ পোঝারস্কি গত বছর পানিতে নামানো হয়েছে, যা রাশিয়ার সমুদ্র প্রতিরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বর্তমানে আরও দুটি সাবমেরিন নির্মাণাধীন রয়েছে। এসব সাবমেরিন বুলাভা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত, যার পাল্লা সর্বোচ্চ আট হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত। এর অর্থ, রাশিয়া আর্কটিকের ভেতর থেকে বিশ্বের যেকোনো অঞ্চলের দিকে কৌশলগত আঘাত হানতে সক্ষম হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্কটিক অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ ও বৈশ্বিক নৌপথে সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণের কারণে সেখানে আধিপত্য বিস্তার এখন বৈশ্বিক শক্তিগুলোর অন্যতম লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুতিনের সাম্প্রতিক বক্তব্য রাশিয়ার সেই ভূ-রাজনৈতিক কৌশলেরই প্রতিফলন, যেখানে আর্কটিক শুধু প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের জন্যও একটি মূল কেন্দ্র হয়ে উঠছে।
রাশিয়ার এই ঘোষণা নতুন করে পশ্চিমা দেশগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং আর্কটিককে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতের ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অগ্রিম বার্তাও বটে।