প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক ভোটার বিশ্বাস করেন, গাজায় ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে। বুধবার প্রকাশিত কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ জরিপে উঠে এসেছে এই তথ্য, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা দ্বারা সম্প্রচারিত হয়েছে।
জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট ভোটারের মধ্যে ৭৭ শতাংশ মনে করেন গাজায় ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে। স্বাধীন ভোটারের মধ্যে এই মতের হার দাঁড়িয়েছে ৫১ শতাংশ। অন্যদিকে, রিপাবলিকান ভোটারের মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশই এই মত ব্যক্ত করেছেন। একই জরিপে প্রতি ১০ জন ভোটারের মধ্যে ছয়জন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরাইলে আরও সামরিক সহায়তা পাঠানোর বিরোধিতা করেছেন, যা ২০২৩ সালের নভেম্বরের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষক টিম ম্যালয় জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি এবং ইসরাইলিদের প্রতি মার্কিন ভোটারদের সহানুভূতি প্রায় সমানভাবে বিভক্ত। জরিপে দেখা গেছে, ৩৭ শতাংশ ভোটার ফিলিস্তিনিদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল, আর ৩৬ শতাংশ ভোটার ইসরাইলিদের প্রতি সহানুভূতিশীল। ম্যালয় মন্তব্য করেছেন, “ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন বাড়ছে, অন্যদিকে ইসরাইলকে সামরিক তহবিল দেয়ার আগ্রহ দ্রুত কমছে। গাজায় ইসরাইলি অভিযানের পরিস্থিতি এমনভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে যে ‘গণহত্যা’ শব্দটি আলোচনায় এসেছে।”
জরিপ অনুযায়ী, ২০০১ সালের ডিসেম্বরে কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয় জরিপ শুরু করার পর মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের হার সর্বোচ্চ এবং ইসরাইলিদের প্রতি সহানুভূতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচও গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ইসরাইল সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইল গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। অবরোধ ও সীমাবদ্ধতার কারণে সেখানকার মানুষদের মধ্যে খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট বেড়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি এবং ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা প্রদানের আগ্রহ কমানোর প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।